স্টাফ রিপোর্টার, রাঙামাটি:
সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রাঙামাটির জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অচল হয়ে পড়েছে পাহাড়ে জুমিয়াদের চাষাবাদ। বৈশাখ মাস শুরু হলেও কালবৈশাখী দূরের কথা সামান্য মেঘের দেখা পাচ্ছে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ। পানির অভাবে চাষ করা যাচ্ছে না সবজি। তাই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর আকাশ ছোঁয়া। উৎপাদন নেই। গরমের কারণে আয়-রোজগাড় বন্ধ করে বেকার দিনযাপন করছে অনেকে।
জানা গেছে, প্রতিবছর বৈশাখ-জৈষ্ঠ মাসে পাহাড়ি জমিতে একসঙ্গে ধান, তুলা, তিল, কাউন, ভূট্টা, ফুটি, মারফা, কাঁচা মরিচ, চীনার, যব বীজ বপন করে জুমিয়া চাষীরা। আর আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেই জুমের ফসল তুলতে শুরু করে। কিন্তু এবার পার্বত্যাঞ্চলে ভিন্ন চিত্র। প্রচন্ড তাপদেহে পাহাড়ের মাটি আগুনের চেয়ে তীব্র গরম হয়ে যাওয়ায় জমিতে পা রাখতে পারছে না চাষীরা। তীব্র রৌদ্র উপেক্ষা করে পাহাড়ি জমিতে যেটুকু চাষ করেছে জুমিয়ারা তাও বৃষ্টিপাতের অভাবে মরে যাচ্ছে। তাছাড়া গরমের সঙ্গে রীতিমত পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।
রাঙামাটি বনরূপা বাজারে সবজি বিক্রেতা সোনামনি চাকমা জানায়, প্রচন্ড গরমে পাহাড়ে চাষীরা চাষাবাদ করতে পারছে না। তাছাড়া পানির অভাব আর বৃষ্টিপাত না হওয়ার ফলে চাষীরা বিপাকে পরেছে। সময়মত ফসল ফলানো সম্ভব না হলে পাহাড়ে মানুষের অভাব বাড়বে। প্রতিটি জিনিষের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
রাঙামাটি আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক ধর্মজ্যোতি চাকমা জানায়, গতকয়েক দিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাঙামাটিতে ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এখনো পর্যন্ত এবছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। আগামী কয়েকদিন এ তাপমাত্রা আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া বিজ্ঞান অনুযায়ী, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রিকে মৃদু, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রিকে মাঝারি ও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাছাড়া রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী ছাড়িয়ে আরো বাড়বে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়।
রাঙামাটি সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তীব্র গরমের কারণে রাঙামাটি হাসপাতাল ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। হাসপাতালে প্রতিদিন বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। রাঙামাটি আশিকা পরিবেশ উন্নয়ন কর্মী বিপ্লব চাকমা বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে নির্বিচারে বন উজাড় এবং বনায়নের নামে সেগুন ও রাবার বাগানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উষ্ণতা বেড়ে চলছে। বলে জানিয়েছেন। তারা জানান, ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপন না করে অন্যান্য গাছ রোপন করে চলেছে।
অন্যদিকে দিন দিন যে ভাবে পাহাড়ী এলাকায় বনের গাছ কেটে পাহাড়-পবর্ত উজাড় করা হচ্ছে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরো বেশী পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
