parbattanews

সামরিক শক্তিতে তিন ধাপ এগিয়ে ইরান

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে কার শক্তি কত? সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে ইরান নাকি ইসরায়েল । মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের নজর এখন ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতির দিকে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরান সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইসরায়েলের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে আছে। তবে দুটি দেশই বিশ্বের সামরিক শক্তিধর দেশের শীর্ষ ২০টি দেশের মাঝে অবস্থান করছে। সামরিক সক্ষমতায় শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ে ইরানের অবস্থান ১৪তম আর ইসরায়েলের ১৭তম।

• নিয়মিত সৈন্য
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য বলছে, সৈন্য সংখ্যার হিসেবে ইসরায়েলের চেয়ে এগিয়ে আছে ইরান। ইরানের নিয়মিত সেনা আছে ১১ লাখ ৮০ হাজার। যেখানে ইসরায়েলের সৈন্য আছে ৬ লাখ ৭০ হাজার।এর মধ্যে ইরানের রিজার্ভ সৈন্য সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ আর ইসরায়েলের রিজার্ভ সেনা ৪ লাখ ৬৫ হাজার।

• যুদ্ধবিমান
ইরানের মোট সামরিক বিমানের সংখ্যা ৫৫১টি আর ইসরায়েলের সামরিক বিমান আছে ৬১২টি।এর মধ্যে ইরানের যুদ্ধবিমান আছে ১৮৬টি আর ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান আছে ২৪১টি।ইরানের অ্যাটাকিং বিমানের সংখ্যা ২৩টি; যেখানে ইসরায়েলের আছে ৩৯টি।ইরানের পরিবহন বিমান আছে ৮৬টি, ইসরায়েলের আছে ১২টি।ইরানের প্রশিক্ষণ বিমান ১০২টি আর ইসরায়েলের আছে ১৫৫টি।

• হেলিকপ্টার
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানের হেলিকপ্টার আছে ১২৯টি আর ইসরায়েলের ১৪৬টি।৪৮টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার নিয়ে ইরানের চেয়ে শক্তিশালী ইসরায়েল। ইরানের অ্যাটাক হেলিকপ্টারের সংখ্যা ১৩টি।

• ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার বলছে, ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যানের দিক থেকে ইসরায়েলের চেয়ে এগিয়ে আছে ইরান। ইসরায়েলের ট্যাঙ্ক আছে ১ হাজার ৩৭০টি আর ইরানের ১ হাজার ৯৯৬টি।সাঁজোয়া যান আছে ইরানের ৬৫ হাজার ৭৬৫টি। ইসরায়েলের আছে ৪৩ হাজার ৪০৩টি। এছাড়া আর্টিলারি সক্ষমতায় এগিয়ে ইরান। যেখানে তাদের রকেট আর্টিলারি এমএলআরএসের সংখ্যা ৭৭৫টি এবং সেলফ প্রপেলড আর্টিলারির সংখ্যা ৫৮০টি।অন্যদিকে, ইসরায়েলের এ দিক থেকে সেফল প্রপেলড আর্টিলারির সংখ্যা ৬৫০টি এবং এমএলআরএস বা রকেট আর্টিলারির সংখ্যা ১৫০টি।

• পারমাণবিক শক্তি
সুইডেন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে প্রায় ১২ হাজার ৫১২টি পারমাণবিক অস্ত্র আছে। দেশগুলো হলো, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েল।এই তালিকায় ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র কখনই ছিল না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার দাবি করেছে, ইরান তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে।ইরান দাবি করে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।

• নৌ শক্তি
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের পরিসংখ্যান বলছে, নৌবাহিনীর শক্তির দিক থেকে এগিয়ে আছে ইরান। দেশটির ১০১টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে; যেখানে ৭টি ফ্রিগেট এবং ২১টি টহল জাহাজ আর ইসরায়েলের যুদ্ধজাহাজ সংখ্যা ৬৭টি।এর মধ্যে টহল জাহাজ আছে ৪৫টি এবং ইসরায়েলের কোনো ফ্রিগেট নেই। সাবমেরিনের দিক থেকেও ইরান শক্তিশালী। ইরানের সাবমেরিন আছে ১৯টি যেখানে ইসরায়েলের সাবমেরিন আছে ৫টি।

• প্রতিরক্ষা বাজেট
প্রতিরক্ষা খাতে ইরান ও ইসরায়েল দুই দেশই প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। তবে বাৎসরিক সামরিক বাজেটে ইরানের তুলনায় ইসরায়েলের ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেট ২ হাজার ৪৪০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, ইরানের বাজেট ৯৯৫ কোটি ডলার। এই র্যাঙ্কিংয়ের ১৪৫ দেশের মধ্যে ইরান ৩৩তম আর ইসরায়েল ১৯তম অবস্থানে রয়েছে।

Exit mobile version