বৈরী আবহাওয়ায় বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূল উত্তাল হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বেড়ে উপকূলে আছড়ে পড়ছে। সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর এবং নদী বন্দরগুলোতে দেখাতে বলা হয়েছে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত। ফলে রোববার (১৬ অক্টোবর) থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে সার্ভিস বোট চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এতে আটক পড়েছে সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যাওয়া প্রায় তিন শতাধিক পর্যটক।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে অনেকে নিজস্ব নিরাপত্তায় সেন্টমার্টিন আসেন। এবারও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ১৫ দিন আগে থেকেই সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিয়মিত সার্ভিস বোটে (কাঠের ট্রলার) অনেক পর্যটক বেড়াতে আসছেন। এখন সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৩০০-৩৩০ জন পর্যটক রয়েছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে রোববার থেকে সার্ভিস বোট চলাচল বন্ধ থাকায় শিডিউল থাকলেও অনেকে ফিরে যেতে পারেননি।
সেন্টমার্টিনের সি প্রবাল রিসোর্টের মালিক আব্দুল মালেক জানান, জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকলেও পর্যটকরা নিজস্ব নিরাপত্তায় স্পিডবোট ও ট্রলারে করে সেন্টমার্টিন এসেছেন। কিন্তু আবহাওয়া বৈরী হওয়ায় সেন্টমার্টিন থেকে কোনো ট্রলার বা স্পিডবোট ছেড়ে যেতে দেয়নি কোস্টগার্ড। রিসোর্টে অবস্থান করা পর্যটকরা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের সেন্টমার্টিন স্টেশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হোটেল ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বরাতে জানতে পেরেছেন ২৫০-৩৩০ জনের মতো পর্যটক দ্বীপে অবস্থান করছেন। বৈরী আবহাওয়া কেটে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের টেকনাফে পাঠানো হবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘মৌসুম না হলেও নিজস্ব নিরাপত্তায় কয়েকশ পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন বলে খবর পেয়েছি। বৈরী আবহাওয়ায় আটকা পড়ার পরই এটি প্রচার পেয়েছে। আমরা পর্যটকদের খোঁজ-খবর নিয়েছি এবং তাদের নিরাপদে থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’
