parbattanews

স্বাধীনতা পদক আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি : জোবেরা রহমান লিনু

জোবেরা রহমান লিনু

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী দেশের কিংবদন্তি টেবিল টেনিস তারকা জোবেরা রহমান লিনু ক্রীড়ায় স্বাধীনতা পদক ২০২৬ লাভ করেছেন। ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ঢাকায় ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর হাতে এই গৌরবোজ্জ্বল পদক তুলে দেন।

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জোবেরা রহমান (লিনু) তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, ‘আমার আজকের এই সম্মান স্বাধীনতা পদক আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তবে এটি শুধু আমার একার নয়, এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নারী ক্রীড়াবিদের সম্মান, সাহস আর স্বপ্নের স্বীকৃতি।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার পর যখন আমাদের দেশে পর্যাপ্ত ক্রীড়া অবকাঠামো ছিল না তখন থেকেই ক্রীড়াঙ্গণে আমার যাত্রা শুরু। নানা সীমাবদ্ধতার মাঝে আমি স্বপ্ন দেখেছি, লড়াই করেছি। সেই পথ চলায় টেবিল টেনিসে ১৬ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হবার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। যার কারণে আমার না গিনিচ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গণে আমি দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি। আমার লক্ষ্য শুধু জয় ছিল না। আমি চেয়েছি টেবিল টেনিসকে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। আমি চেয়েছি আমাদের মেয়েরা খেলাধুলায় এগিয়ে আসুক, আত্মবিশ্বাসী হোক এবং নিজের শক্তিতে দাঁড়াক। আজ যখন দেখি বাংলাদেশের মেয়েরা খেলাধুলা, শিক্ষা, বিজ্ঞান, কর্পোরেট জগত সবখানেই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করছে তখন মনে হয় আমার এই দীর্ঘ সংগ্রাম বৃথা যায়নি।’

স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তি ও এই মূল্যায়নের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সকল কর্মকর্তা, সহকর্মী খেলোয়ারবৃন্দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি ১৯৬৫ সালর ৯ জুন কাপ্তাইয়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আবাসিক এলাকার সেকেন্ড হিলে জন্ম নেন। তাঁর বাবা শেখ আবদুর রহমান সেই সময় কাপ্তাই পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরবর্তী তিনি পিডিবির সদস্য( উৎপাদন) হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর মায়ের নাম আঁখি রহমান। লিনু কাপ্তাই পিডিবি স্কুলে পড়ালেখা করেছেন। পরবর্তীতে তাঁর বাবা সিলেটে বদলি হন।

বাবার অনুপ্রেরণায় সিলেটের শাহাজীবাজার অফিসার্স ক্লাবে মাত্র ৮ বছর বয়সে টেবিল টেনিস খেলা শুরু করেন নিলু। ১৯৭৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে প্রথমবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হন। এরপর ১৯৭৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মোট ১৬ বার জাতীয় মহিলা এককে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের টেবিল টেনিসে অনন্য এক রেকর্ড গড়েন।

এই অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয় গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে।

উল্লেখ্য, দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে এ বছর স্বাধীনতা পদক দিয়েছে সরকার।

 

Exit mobile version