parbattanews

২০১৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য প্রকাশ করেছে ইউপিডিএফ

ইউপিডিএফ

স্টাফ রিপোর্টার:

ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর মানবাধিকার পরিবীক্ষণ সেল (Human Rights Monitoring Cell) ২০১৪ সালের পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বার্তার মাধ্যমে পাঠানো মানবাধিকার রিপোর্ট বলা হয়েছে, গত বছর পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা, সেনা হেফাজতে মৃত্যু, বিনা বিচারে আটক, শারিরীক নির্যাতন, নারী ধর্ষণ ও ভূমি বেদখলসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপ ও বোরকা পার্টির সন্ত্রাসীদের হাতে ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমিতির এমএন লারমা অংশের নেতা-কর্মী খুন সহ বহু নিরীহ ব্যক্তি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।

ইউপিডিএফের মানবাধিকার পরিবীক্ষণ সেলের রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, গত বছর খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে দুটি বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি ও বেতছড়িতে পাহাড়িদের উপর বাঙালীর হামলায় কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়।

সর্বশেষ ১৬ ডিসেম্বর রাঙামাটির নান্যাচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের বগাছড়িতে পাহাড়িদের ৩টি গ্রামে হামলা, বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে ৫০টি বসতবাড়ি, ৭টি দোকান ও ১টি ক্লাবে অগ্নিসংযোগ, বৌদ্ধ বিহারে হামলা, বুদ্ধমূর্তি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।

এছাড়া রাঙামাটি ও বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক কমিশন (সিএইচটি কমিশন) এর সদস্যদের উপর হামলা হয়। এতে ইলিরা দেওয়ান ও ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ অনেকে আহত হন। অপর এক ঘটনায় কমিশনের কো-অর্ডিনেটর হানা শামস আহমেদ ব্যক্তিগত সফরে বান্দরবান গেলে তার উপরও উগ্রবাদী সেটলাররা হামলা চালায়। এসব ঘটনা ছাড়াও রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে আরো কমপক্ষে ৬টি ছোটখাটো হামলার ঘটনা ঘটে।

গত বছর নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন ৪৬ জন। এর মধ্যে ইউপিডিএফ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন ১৭ জন, নিরীহ গ্রামবাসী গ্রেফতার হয়েছেন ২৬ জন এবং জেএসএস (এমএন লারমা)-এর ৩ কর্মী-সমর্থককে আটক করা হয়। এছাড়া সেনা হেফাজতে শারিরীক নির্যাতনে মারা যান একজন।

অপরদিকে, একটি বৌদ্ধ মন্দিরসহ কমপক্ষে ৫৫টি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং জনপ্রতিনিধিসহ বেশ কয়েকজন হেনস্থা ও হয়রানির শিকার হন। এ সময় ১৫ জন নিরীহ ব্যক্তি শারিরীক নির্যাতনের শিকার হন। সেনা, বিজিবি ও পুলিশ কর্তৃক এসব ঘটনা ঘটে।

জেএসএস সন্তু গ্রুপের হামলায় নিহত হয়েছেন ১৫ জন। এর মধ্যে ইউপিডিএফ কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন ১৩ জন এবং জেএসএস (এমএন লারমা)-এর নিহত হন ২ জন। নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। এছাড়া সন্তু গ্রুপের হাতে নিরীহ গ্রামবাসী অপহৃত হয়েছেন ২ জন ও শারিরীক নির্যাতনের শিকার হন ৫ জন।

অন্যদিকে, জেএসএস এমএন লারমা দলের ১ সদস্য আহত এবং অপর এক সদস্য হত্যা প্রচেষ্টার শিকার হন। এছাড়া বোরকা পার্র্টির সন্ত্রাসী কর্তৃক ৮ নিরীহ গ্রামবাসী অপহরণের শিকার হয়েছেন।

গতবছর পাহাড়ি নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে ৪ শিশুসহ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৩ জন। ধর্ষণের পর খুন হন ৪ জন। ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার হন ১৫ জন। অপহৃত হন ১ জন ও অপহরণ চেষ্টার শিকার হন অপর একজন। এদের মধ্যে ২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য দ্বারা ও ৩২ জন বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এছাড়া রাঙামাটি পর্যটন এলাকা ও বিলাইছড়ির বহলতলী এলাকার কাপ্তাই লেক থেকে দুই পাহাড়ি নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

২০১৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক ভূমি বেদখলের ঘটনা ঘটে। খাগড়াছড়ির বাবুছড়ায় বিজিবির ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য জোরপূর্বক ভূমি অধিগ্রহণ করা হলে ২১টি পাহাড়ি পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়। বর্তমানে তারা জায়গা-জমি হারিয়ে শরণার্থীর মতো মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অপরদিকে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বিজিবির অপর একটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর স্থাপনের নামে শ্মশানের জমিসহ পাহাড়িদের মালিকানাধীন আনুমানিক ৫০ একর জমি বেদখল করা হয়। এছাড়া সেটলার কর্তৃক বেশ কয়েকটি ভূমি বেদখল প্রচেষ্টার ঘটনাও ঘটে।

নিম্নে ইউপিডিএফের মানবাধিকার পরিবীক্ষণ সেলের সংকলিত ২০১৪ সালে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হল:

১। সাম্প্রদায়িক হামলা:

ক. কমলছড়ি ও বেতছড়ি, খাগড়াছড়ি:
গত বছর ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারী খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি ও বেতছড়িতে গ্রামে বাঙালিরা পাহাড়িদের উপর হামলা চালায়। এ সময় তারা পাহাড়িদের বাড়িঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, জিনিসপত্র ভাংচুর, লুটপাট ও একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা-ভাংচুর চালানো হয়। এ হামলায় কমপক্ষে ৫ জন পাহাড়ি গুরুতর আহত হয়। সবিতা চাকমাকে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে বাঙালীরা এ হামলা চালায়। এ হামলার সাথে জড়িত কাউকে পুলিশ আটক করেনি।

খ. বগাছড়ি, নানিয়াচর, রাঙামাটি:
২০১৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ওপর ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা হচ্ছে রাঙামাটির নান্যাচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের বগাছড়িতে সেনা-বাঙালী কর্তৃক সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলা। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরিকল্পিত এ হামলায় পাহাড়িদের ৫০টি বসতবাড়ি, ৭টি দোকান, ১টি ক্লাব অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া করুণা বনবিহার নামে একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা, বৌদ্ধ ভিক্ষুকে মারধর, বিহারের জিনিসপত্র ভাংচুর, বুদ্ধমূর্তি ও টাকা-পয়সা লুট করা হয়।

খাগড়াছড়ি থেকে রাঙামাটি যাওয়ার পথে রাস্তামাথা নামক স্থানে দীঘিনালার কবাখালী মৈত্রী বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরকেও শারিরীক নির্যাতন করা হয়। এ হামলায় কমপক্ষে ২ কোটি টাকা ক্ষয়-ক্ষতি হয়। আনারস বাগান কেটে ফেলার অভিযোগ তুলে এ হামলা চালানো হয়। মূলত হামলার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভূমি বেদখল অব্যাহত রাখা ও পাহাড়িদের নিজ বসতভূমি থেকে উচ্ছেদ করা।

গ. অন্যান্য হামলা:

১৫ মার্চ ১০১৪
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের জুমছড়া গ্রামে বাঙালীরা হামলা চালিয়ে শৈলেন্দ্র ত্রিপুরা(৩০) নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। বাঙালীরা তার স্ত্রীকেও বেদম মারধর করে। একই দিন হামলাকারীরা ৪ জন পাহাড়ি গ্রামবাসীকে ধরে নিয়ে যায়।

১৫ এপ্রিল ২০১৪
একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার গোলাবাড়ি ইউনিয়নে জিরো মাইল এলাকার রাজবাড়ী পাড়া, মধু বাজার সহ কয়েকটি স্থানে বাঙালিরা দলবদ্ধ হয়ে পাহাড়ি অধিবাসীদের উপর হামলা চালায়। এ সময় তারা পাহাড়িদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনার পর পরই বাজার থেকে বাড়ী ফেরা লোকজনের উপর তারা এলোপাথাড়ি মারধর করে ও সঙ্গে থাকা সাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ কেড়ে নেয়। এ হামলায় বেশ কয়েকজন পাহাড়ি আহত হয়।

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৪
রাঙামাটির নান্যাচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের উত্তর হাতিমারা এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বাঙালিদের হামলায় কমপক্ষে ১১ জন পাহাড়ি আহত হয়।

১ অক্টোবর ২০১৪
নান্যাচরের বগাছড়িতে বাঙালীরা যাত্রীবাহী গাড়ি আটকিয়ে রাস্তা অবরোধ করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এসময় তারা কয়েকজন গাড়ি চালককে মারধর করে। পাহাড়িদের জায়গা থেকে গাছ কাটতে বাধা দেওয়ায় তারা এ ঘটনা ঘটায়।

১৮ ডিসেম্বর ২০১৪
লংগদু উপজেলার শিলহাবা ছড়া নামক স্থানে বাঙালিরা ৫৪ জন পাহাড়িকে আটকিয়ে রেখে মারধর ও হয়রানি করে। ঘটনার দিন পাহাড়িরা তাদের উৎপাদিত আদা, হলুদ, কলা সহ অন্যান্য মালামাল সুবলং বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে শিলহাবা ছড়া দোকানে মজুদ করার জন্য নিয়ে গেলে এ সময় তাদের আটকায়। কয়েক ঘন্টা আটক থাকার পর বিজিবি’র হস্তক্ষেপে তারা মুক্তি পায়।

২৮ ডিসেম্বর ২০১৪
নান্যাচর থেকে গাড়িতে করে করে আসার পথে বগাছড়ি রাস্তামাথা নামক স্থানে একদল বাঙালী উপজেলা চেয়াম্যানের গাড়িতে হামলা চালায়। এতে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রণ বিকাশ চাকমা গুরুতর আহত হয়।

২। সেনা হেফাজতে মৃত্যু
গত বছর সেনা হেফাজতে শারিরীক নির্যাতনের কারণে তিমির বরণ চাকমা ওরফে দুরন নামে জেএসএস এমএন লারমা দলের এর এক সদস্যের মৃত্যু হয়। মাটিরাংগা জোনের ক্যাপ্টেন কাওসারের নেতৃত্বে একদল সেনা জোয়ান লেমুছড়া এলাকা থেকে ১০ আগস্ট ভোরে তাকে আটক করে। আটকের পর সেনা জোনে নিয়ে গিয়ে বেপরোয়া শারিরীক নির্যাতন করা হলে তিনি মারা যান। এরপর তার লাশটি খাগড়াছড়ি নিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের নিকট হস্তান্তর না করে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

৩। গ্রেফতার:
গতবছর বিভিন্ন সময়ে সেনা, বিজিবি ও পুলিশ কর্তৃক মোট গ্রেফতার হয়েছেন ৪৬ জন। এর মধ্যে ইউপিডিএফ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ১৭ জন, সাধারণ গ্রামবাসী ২৬ জন এবং জেএসএস(এমএন লারমা)-এর ৩ সদস্য রয়েছেন। আটককৃতদের মধ্যে ২ জন গ্রাম প্রধান ও কয়েকজন স্কুলছাত্রও রয়েছেন। আটককৃতদের অনেককে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের পর ছেড়ে দেয়া হলেও অনেককে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়। অনেকে আদালতের নির্দেশে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও এখনো অনেকে বন্দী রয়েছেন।

অপরদিকে সেনাবাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন স্থানে একটি বৌদ্ধ মন্দিরসহ ৫৫টি বাড়িতে তল্লাশির ঘটনা ঘটে। এ সময় কমপক্ষে ৫জনকে শারিরীক নির্যাতন চালানো হয়। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি ও মহালছড়ির কয়েকটি এলাকায় জনপ্রতিনিধি সহ এলাকার লোকজন সেনাবাহিনী কর্তৃক হেনস্থা ও হয়রানির শিকার হন।
এছাড়া মাটিরাংগা উপজেলার লক্ষীছড়ায় বাঁশ বিক্রি করতে গিয়ে ১০ জন নারী-পুরুষ বিজিবি সদস্যদর হাতে শারিরীক নির্যাতনের শিকার হন। মারধরের শিকার হওয়া গ্রামবাসীরা ছিলেন অধিকাংশই নারী। অন্যদিকে, দীঘিনালার নাড়াইছড়ির ধীরেন হেডম্যান পাড়ার কয়েকটি বাড়িতে বিজিবি সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

৪। সন্ত্রাসী হামলা:
২০১৪ সালে জেএসএস সন্তু গ্রুপের হামলায় খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রাঙামাটির ঘিলাছড়িতে দু’টি জোড়াখুনের ঘটনা সহ ইউপিডিএফ সদস্য, সমর্থক ও সাধারণ লোক নিহত হয়েছেন ১৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৩ জন। নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। এছাড়া অপহৃত হয়েছেন ২ জন ও মারধরের শিকার হয়েছেন ৫ জন গ্রামবাসী। অপরদিকে, জেএসএস (এমএন লারমা)-এর দুই সদস্য নিহত, ১ জন আহত ও অপর এক সদস্যকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

৫। বোরকা পার্টি কর্তৃক সংঘটিত ঘটনা
গত বছর সেনা-সন্তু মদদপুষ্ট বোরকা পার্টির সন্ত্রাসী কর্তৃক খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি ও মানিকছড়ি উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে ৮ জন নিরীহ ব্যক্তি অপহৃত হন। অপহরণের পর শারিরীক নির্যাতন ও মুক্তিপণের বিনিময়ে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

৬। ভূমি বেদখল

ক. বাবুছড়া, দীঘিনালা:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া এলাকার যত্নমোহন কার্বারী পাড়া ও শশী মোহন কার্বারী পাড়ায় পাহাড়িদের জায়গা বেদখল করে বিজিবি ৫১ ব্যাটালিন সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। এ জবরদখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিজেদের জায়গায় কলা চারা রোপন করতে গেলে গ্রামবাসীদের উপর বিজিবি সদস্যরা হামলা চালায়। এ হামলায় ১৮ জন গ্রামবাসী আহত হয়। যাদের অধিকাংশই নারী।

এ ঘটনায় উল্টো বিজিবি’র দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় পুলিশ ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ ১০ জনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। অবশ্য বর্তমানে সবাই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এ ঘটনার পর বিজিবি কর্তৃক উক্ত দুই গ্রামের ২১ পরিবার পাহাড়ি নিজ বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের শিকার হন।

খ. রোয়াংছড়ি, বান্দরবান:
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ৩৪৮নং হ্লাপাইক্ষ্যঙ মৌজার পুরাতন ক্রাইক্ষ্যং পাড়া ও তার আশেপাশের পাহাড়ি গ্রামবাসীদের ৫০ একরের অধিক পরিমাণ জায়গা বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেড কোয়ার্টার স্থাপনের নামে জবরদখল করা হয়। এর মধ্যে পাহাড়িদের শ্মশানভূমিও রয়েছে।

৭। ভূমি বেদখল প্রচেষ্টা

৪ জুন ২০১৪ তে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ভেইবোনছড়ায় ভূমি বেদখল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাঙালীরা কালাচান চাকমা নামে এক পাহাড়ির খামার বাড়ি ভেঙে দেয়। কালাচান চাকমার ৫ একর রেকর্ডিয় জায়গা বেদখল করতে মো: ইদ্রিস, মো: সবুর ও মো: ইউনুস ফরায়েজীর নেতৃত্বে ১০/১৫ জন বাঙালী এ ঘটনা সংঘটিত করে।

১৯ জুন ২০১৪তে রাঙামাটির কাউখালীর উপজেলার ঘিলাছড়ি গ্রামে ২ একর জায়গা জবরদখল করার লক্ষ্যে মো: নজরুল ইসলাম(৪০) ও বিল্লাল মেম্বারের ছেলে জহুরুল(২৫) পাইচিউ মারমার বাড়িতে ঢুকে তার উপর হামলা চালায়। এ সময় বাঙালীদের দা’য়ের কোপে পাইচিউ মারমা আহত হয়।

১৫ জুলাই, ২০১৪ তে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের বেলছড়িতে বাঙালীরা জমি বেদখলের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাহাড়িদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাঙালীরা সন্দীপ ত্রিপুরা (২০) নামে এক পাহাড়ির বাড়ি ভেঙে দেয়। রঙ্গিলা চাকমার ভোগদখলীয় জমি বেদখল করার লক্ষ্যে সিরাজুদ্দৌল্লাহ গং এ হামলা চালায়।

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলাধীন কমলছড়ি ইউনিয়নের মধ্য বেতছড়িতে পাহাড়িদের ভোগদখলীয় জায়গা বেদখলের চেষ্টা চালায়। ভুয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের সোবহানের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একদল বাঙালী জায়গা বেদখল করতে গেলে পাহাড়িরাও সংঘবদ্ধ হয়ে বাঙালীদের প্রতিরোধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এ সময় বাঙালীরা নীতিময় চাকমার বাড়িটি ভেঙে দেয়। এক পর্যায়ে পাহাড়িদের প্রতিরোধের মুখে সেটলাররা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

এদিকে ইউপিডিএফ’র এই মানবাধিকার রিপোর্ট সম্পর্কে পার্বত্য গণ পরিষদের মহাসচিব কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী পার্বত্যনিউজকে বলেন, একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের মানবাধিকার রিপোর্ট দেয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বাধিক মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটে ইউপিডিএফ কর্তৃক। যারা অস্ত্রের মুখে পাহাড়ী বাঙালী জনতাকে জিম্মি করে রেখেছে তাদের মুখে মানবাধিকারের কথা মানায় না। তাদের রিপোর্টে চাঁদাবাজীর কোনো কথা নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন রিপোর্ট।

অন্যদিকে পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাস আল মামুন ভুইয়া পার্বত্যনিউজকে বলেন, আমরা এই রিপোর্ট সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি। এটি সম্পূর্ণ একপেশে, মনগড়া, ভিত্তিহীন। তারা তাদের অপরাধগুলোকে বাঙালী ও সেনাবাহিনীর উপর চাপিয়ে দিয়েছে তথ্য বিকৃতি করে।

Exit mobile version