২০২৩ সালে বিভিন্ন পর্যায়ের কমান্ডারসহ ৮৩ আরসাকে আটক করেছে র‌্যাব

fec-image

কক্সবাজার সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আরসা’র লজিস্টিক শাখার প্রধান রহমত উল্লাহসহ তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব-১৫। এসময় বিপুল পরিমাণ ককটেল, বিস্ফোরক সদৃশ বস্তুু, সামরিক বাহিনীর ন্যায় পোশাক ও বিভিন্ন রকম বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ২০২৩ সালে অভিযানের বিভিন্ন সময় কমান্ডারসহ মোট ৮৩ জন আরসাকে আটক করে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫।

রবিবার দুপুরে (৩১ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ.এম সাজ্জাদ হোসেন।

তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে খবর আসে কক্সবাজার সদরের কলাতলী ডিসি পাহাড় সংলগ্ন আদর্শ গ্রামে অবস্থান করছে। এমন খবরে সকাল ৯টায় অভিযান চালিয়ে আরসার সদস্যদের আটক করতে সক্ষম হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় ৪.৯ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ১৫ পিস ককটেল, আইডি তৈরির সরঞ্জাম, ১.৫ কেজি মারকারী, ১টি ওয়াকিটকি, ৫৩টি সার্কিট, ৯ বান্ডিল সামরিক বাহিনীর ন্যায় পোশাক তৈরির কাপড়, ৭০টি গেঞ্জি, ১২টি টুপি, ১৩০টি হ্যান্ড গ্লোভস, নগদ ২ হাজার ২৯০ টাকা, ২টি মোবাইল এবং ১টি ল্যাপটপ।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- কুতুপালং ক্যাম্পের ৩ ব্লকের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে হাফেজ রহমত উল্লাহ (৩৫), একই ক্যাম্পের ৫ ব্লকের নুরুল ইসলামের ছেলে মঞ্জুর আলম (২৩) ও একই ক্যাম্পে ৪ নাম্বার ব্লকের কামাল হোসেনের ছেলে নুরুল ইসলাম (২৫)।

প্রেস ব্রিফিংএ আরো জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত হাফেজ রহমত উল্লাহ র‌্যাবকে জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটের সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসার নির্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুন, অপহরণ ও নাশকতা করে থাকে।

সে আরসা প্রধান এবং সামরিক শাখার প্রধানের ডিমান্ড অনুয়ায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে লজিষ্টিক সরঞ্জামাদি বিশেষ করে আরসার জন্য ইউনিফরমের কাপড়, শীতবস্ত্র, রেইন কোট, বুট জুতা, মোজা, বেল্ট, ক্যাপ, ব্যাগ এবং বোমা ও মাইম বানানোর জন্য হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, মারকারী (পারদ), ফোম, টর্চ লাইট, ব্যাটারী, ব্যাটারীর ক্যাপ, ইলেকট্রিক তার, ইলেকট্রিক ক্লিপ, ছোট টেবিল ঘড়ি, ছোট লাইট, লোহার রড, সিমেন্ট, ছোট লোহা, পাইপ, কাচঁ সহকারে নানান ধরনের বোমা ও মাইন তৈরির সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করতো এবং কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে তা জমা রাখতো।

পরবর্তীতে আরসার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড খালেদের নির্দেশনা অনুয়ায়ী উপরে বর্ণিত সরঞ্জামাদি কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা’র সদস্যদের কাছে পাঠাতো। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আরসা, র‌্যাব
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন