২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় কুরবানিকৃত পশুর সংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে বছরে প্রায় ১ থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ পশু কুরবানি হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ঈদুল আযহার কোরবানির পরিসংখ্যান ২০২৫ এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কুরবানির সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান, যেখানে কুরবানির সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ লাখ। তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে কুরবানি হয়েছে আনুমানিক ৬০ থেকে ৮০ লাখ পশু।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেই কুরবানির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ২০ থেকে ৪০ লাখ পশু কুরবানি হয়েছে। অন্যদিকে ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার দেশ সৌদি আরবে কুরবানির সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ থেকে ২৫ লাখ।
তালিকায় আরও রয়েছে মিশর, তুরস্ক, নাইজেরিয়া, ইরান, আলজেরিয়া ও মরক্কোর মতো দেশ। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কুরবানির সংখ্যা তুলনামূলক কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে কুরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, খামারভিত্তিক গবাদিপশু পালন বৃদ্ধি এবং মানুষের ধর্মীয় আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে প্রতি বছর কুরবানির সংখ্যা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা আধুনিক খামারগুলোও এ খাতে বড় ভূমিকা রাখছে।
প্রাণিসম্পদ খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কুরবানিকে ঘিরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা দেশ তথা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে।
এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে FAO, বিভিন্ন দেশের Livestock Ministry এবং WIER-এর ২০২৪–২৫ সালের যৌথ তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ।
উল্লেখ্য, সরকারি সংস্থা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, ২০২৫ সালে দেশে ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি হয়েছে। পরিসংখ্যানের দিক থেকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে উল্লেখিত পরিসংখ্যানের অসামঞ্জস্য ধরে নিলেও ২০২৫ সালে মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পশু কুরবানি হয়েছে বাংলাদেশে।
