parbattanews

ওয়াদুদ ভুইয়ার বক্তব্য : ‘গুপ্ত’ নিয়ে সংসদে হইচই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন খাগড়াছড়ি আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়া।

খাগড়াছড়ি আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়ার বক্তব্য ঘিরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সময় সংসদ বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।। তিনি বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ‘গুপ্ত’ ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরে সরকারদলীয় সদস্যরাও পাল্টা টেবিল চাপড়াতে থাকেন।

এতে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। উত্তেজনা চলাকালে সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখাতে স্পিকার বারবার আহ্বান জানান।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়াদুদ ভুইয়া বলেন, চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে কারা? শিবির। কী অপরাধ ছিল ছাত্রদলের? ছাত্রদল শুধু বলেছে গুপ্ত, লিখেছে গুপ্ত। সে জন্যই তারা ছাত্রদলের ওপর হামলা করে। এর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করা হয়েছে। বিরোধী দলের ভাইয়েরা খেপে উঠেছেন, এই সংসদে গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলার অধিকার দিতে চায় না। এই সংসদে কথা বলার জন্য আমরা নির্বাচিত হয়ে এসেছি।

বিরোধী দলের ভাইয়েরা ফ্যাসিস্টের মতো কণ্ঠ চিপে ধরতে চান।

সরকারকে নাজেহাল করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে উল্লেখ করে  তিনি বলেন, ‘সরকারকে নাজেহাল করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে বিরোধী দল। আমি বলতে চাই আজকে সংসদে আমাদের বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যে আচরণ দেখাচ্ছেন, এতে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী দিনে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি তারা করতে দেবেন না। এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিরোধী দলকে আমি এটাও বলে দিতে চাই, আমাদের যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙ্গুল চুষবে না, বসে থাকবে না।

আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না, তারা প্রতিবাদ করবে।’

বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা করে ওয়াদুদ ভুইয়া বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধকে তারা মেনে নিতে পারেনি। যারা ৭১ সালের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে না, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চাইতে পারে না। ৭১ সালের জন্ম হওয়া বাংলাদেশকে তারা মেনে নিতে পারেনি বলে আজকে সদ্যজাত সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

ওয়াদুদ ভুইয়ার বক্তব্য শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘প্রথমে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এখানে যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, এটা এক্সপ্যাঞ্জ করা হোক। একজন সংসদ সদস্য সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, আমরা এতে আঘাত পেয়েছি। আমরা আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছি। জনগণ বসে থাকবে না মানে কী? তিনি কি জনগণকে বিশৃঙ্খলার দিকে উস্কে দিচ্ছেন? এগুলো সংসদীয় আচরণ না।’

এ সময় স্পিকার বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা করে দেখব, যদি কোনো অসংসদীয় ভাষা থাকে, সেটা এক্সপাঞ্জ করব। তবে যেসব বক্তব্য এসেছে, এটা তো বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষা। আমরা চুপ করে থাকব না—এইগুলো তো শত বছর ধরে রাজনীতিবিদরা বলে এসেছেন। আপনারা বক্তৃতার সময় এর জবাব দেবেন, কিন্তু বক্তব্য চলাকালে অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না।’

Exit mobile version