দলগত অপরাধের বিচারের প্রসঙ্গে স্পষ্ট কথা বলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ধন্যবাদ জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিগত অন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী।
একটা জরুরি আলাপ শিরোনামে ফারুকীর পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দলগত অপরাধের বিচারের প্রসঙ্গে স্পষ্ট কথা বলেছেন। তাঁকে ধন্যবাদ। কিন্তু ফ্যাসিবাদের সম্মতি উৎপাদন যারা করেছেন এবং এখনও যারা খুব দূর্বল কিছু কৌশলে ফ্যাসিবাদকে ঢাল দেয়ার চেষ্টা করছেন তাদের ক্ষেত্রে কি করণীয়? সিনিয়র সাংবাদিক, শিল্পী, মডেল এরকম নানা রকমারি নামের আড়ালে বেশ কিছু আওয়ামী ফুট সোলজার এইসব কাজ করে যাচ্ছেন।
এরা জুলাই এবং ১৬ বছরে মানবতা বিরোধী অপরাধের ভিকটিমদের নিয়ে কটাক্ষ করলে করণীয় কী? আমার কথা যদি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি জুলাইয়ের পরাজিত শক্তি পাগল হয়ে কী বলে না বলে এটারে আলোচনায়ও আনার দরকার নাই।
কিন্তু আমি তো কাউকে হারাই নাই। আমি বা আমরা এখানে কোনো বিষয় না। বিষয় হচ্ছে ঐ সন্তানহারা মা, বাবা, স্ত্রী, পরিবার পরিজন। আমরা কী তাদের অনুভুতিকে কোনো গুরুত্ব দিবো না?
নাকি আমরা এইসব ল্যাসপেন্সারদের এভাবে ছুরি হাতে ঘুরে বেড়াতে দেবো? আর তারা সেই ছুরি দিয়ে শহীদদের স্মৃতিকে কেটে ফালা ফালা করবে? বলবে ‘জুলাইতে কিছু হয় নাই, সব মেটিকিউলাস ডিজাইন’? শহীদ ইয়ামিনরা যেমন শেষ একবার দম নেয়ার জন্য দুনিয়ার সব বাতাস টেনে ভেতরে নেয়ার চেষ্টা করছিলো, ইয়ামিন-ওয়াসিম-সাঈদ-মুগ্ধ-নাইমাদের বাবা-মায়েরা যখন এইসব শোনে তখন তাদেরও এইরকম নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। প্রতিবার এইসব মানবিক বোধ শূন্য জম্বিরা যখন টিভিতে পত্রিকায় এইসব বলে, আমাদের শহীদেরা দ্বিতীয় বার, তৃতীয় বার, অজস্র বার শহীদ হয়।
একটা শহীদের বাবা কিংবা মা কতবার এটা সহ্য করবে? কেনো করবে? এর প্রতিকার কী?
যখন গুমের ভিকটিমদের পরিবারকে রক্তাক্ত করে বলা হয় ‘গুম বলে কিছু নাই’- তখন তার প্রতিকার কী?
রাষ্ট্রকে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে। ১৬ বছরের সব শহীদদের বিচারের ব্যবস্থাই শুধু করলে হবে তা না, শহীদদের স্মৃতি ও তাদের পরিবারকে এইসব ফ্যাসিবাদের সম্মতি উৎপাদনকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে রাষ্ট্রকেই।
এটা এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পরবর্তী পর্যায়! এটাকে স্বাভাবিক সময় হিসাবে বিবেচনা করলে হবে না।
যদি দরকার হয় আইন করা হোক ফ্যাসিবাদের সম্মতি উৎপাদন কারীদের বিচারের জন্য। নিদেনপক্ষে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন করা হোক।
পাশাপাশি আইন করা হোক ভিকটিমদের স্মৃতিকে অশ্রদ্ধা করে এমন কোনো কিছু প্রচার নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে। অ্যাট লিস্ট ক্ষত শুকানোর সময়টা পর্যন্ত ভিকটিমদের পরিবারকে এই প্রটেকশন দেয়া হোক। একবার ভাবেনতো মুক্তিযুদ্ধের পর কোনো লোক সাহস করতো টিভি শোতে এইসব বলতে? চব্বিশ মুক্তিযুদ্ধের মতো এতো ব্যাপক না হলেও এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানতো। এটাতো এই জাতির সার্বভৌমত্ব রক্ষা আর স্বাধীন দেশে পরাধীন দশা থেকে মুক্তির যুদ্ধই।’ –মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী
