‘আর নয় অনুপ্রবেশ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চায় বাংলাদেশ’, সাত দফা দাবি দিলো স্থানীয়রা


দ্রুত প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো, নতুন করে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় না এনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফেরতদান, অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ রোধসহ সাত দফা দাবিতে কক্সবাজারের উখিয়ায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা।
কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী স্টেশনে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বিকালে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি পালংখালী’র উদ্যোগে হাজারো স্থানীয়দের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আয়োজনকারী সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ স্থানীয় কয়েক শত মানুষ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয়দের উত্থাপিত দাবিগুলো হল- ১. আশ্রিত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মায়ানমারে প্রত্যাবাসন করতে হবে।
২. রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা বলয় জোরদার করতে হবে।
৩. অবৈধভাবে ২০২৪ সালে অনুপ্রবেশ করা লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদেরকে এফডিএমএন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে (বায়োমেট্রিক) তাদেরকে পুশব্যাকের জন্য কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে।
৪. স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. চাকরিসহ ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের প্রাধান্য (ন্যূনতম ৫০%) নিশ্চিত করতে হবে।
৬. কাঁটাতারের বাহিরে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে এবং ক্যাম্পের বাহিরে রোহিঙ্গাদের বাসাভাড়া বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৭. ক্যাম্পের চাকরির নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আরআরআরসি প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে।
‘আর নয় অনুপ্রবেশ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চায় বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি-পালংখালী এর সভাপতি প্রকৌশলী রবিউল হোসেন এর সভাপতিত্বে মানববন্ধোত্তর সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সরওয়ার জাহান চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হওয়ায় স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। চুরি-ডাকাতি, অপহরণ বাণিজ্য এবং খুন-খারাবিসহ নানা অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলছে। প্রায় ৮ বছর হতে চললেও একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের দেশে ফেরত পাঠানো যায়নি। উল্টো গত কয়েক মাসে আরাকানে অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আরও লাখের কাছাকাছি নতুন রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উখিয়া ও টেকনাফ সহ স্থানীয়দের জীবনযাত্রার পাশাপাশি নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, “এখনো এক লাখ মতো রোহিঙ্গা সীমান্তের ওপারে অবস্থান করছে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য। একটা রোহিঙ্গাও যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সেই পদক্ষেপ সরকারকে নিতে হবে।”
প্রয়োজনে আমরা স্থানীয়রা সরকারকে সহযোগিতা করব। কারণ একজন রোহিঙ্গাকেও ধারণ করার জন্য উখিয়ায় জায়গা নেই।
সীমান্তে বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি অব্যাহত না থাকলে সাধারণ রোহিঙ্গাসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সদস্যদের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এ রাজনৈতিক নেতা।
রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন, নতুন করে অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং ক্যাম্পে কর্মরত দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকারসহ ৭দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, “রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে স্থানীয়রা নানাভাবে দুর্ভোগ ও বৈষম্যের শিকার। তাই দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। এই জন্য জেলা প্রশাসন ও আরআরআরসি কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠন করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।”
মানববন্ধনোত্তর সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী রবিউল হোসেন বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে স্থানীয়দের উত্থাপিত ৭দফা দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। আর দাবি বাস্তবায়ন না হলে সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এম. মোক্তার আহমদ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এড. রেজাউল করিম, ব্যারিষ্টার সাফফাত ফারদিন রামিম, শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল আলা রোমান, পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন চৌধুরী, শিক্ষক মোক্তার আহমদ ও স্থানীয় জামায়াত ইসলামী নেতা আব্দুর জব্বার সহ স্থানীয় নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।

















