লামায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এর কার্যক্রম নিরাপত্তা সংস্থা সমূহকে খতিয়ে দেখার দাবি সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের

fec-image

বান্দরবানের লামা এলাকায় অবস্থিত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে সংস্থাটির লামা সেন্টারের অভ্যন্তরের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করে সেখানে পরিচালিত কার্যক্রম ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) তার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, বান্দরবানের লামার প্রায় ২,৫০০ একর জায়গাজুড়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একটি বড় সেন্টার রয়েছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সেগুলোর বিস্তারিত বিষয় সম্পর্কে জনসমক্ষে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না বলে দাবি করেন তিনি।

পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ওই সেন্টারে প্রায় ১,২০০ কর্মী কাজ করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে ঠিক কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং কোন কর্তৃপক্ষ এ কার্যক্রম তদারকি করে এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। এমনকি সেন্টারটিতে প্রবেশের জন্য সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদেরও অনুমতি নিতে হয় বলে দাবি করেন জুলকারনাইন।

এই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শহীদ আল বোখারী যাকে গুরুজী এবং মহাজাতক বলে সম্বোধন করা হয়, তার সাথে কুচক্রী ছোটন গ্যাং এর সম্পর্ক এদের কার্যক্রমের বিষয়ে আরো আগ্রহী করে তোলে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুসন্ধানি এই সাংবাদিক তার পোস্টে দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর সঙ্গে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে “বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা” শীর্ষক একটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

আর প্রশিক্ষণ দিতে হলে, ২০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেসকল শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী আছেন, তাঁদের ব্যক্তিগত তথ‍্যও নিশ্চই এই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কাছে পৌঁছাবে সেটা কি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যে সহায়ক হবে? প্রশ্ন তোলেন আল জাজিরার এই সাংবাদিক।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ১ দিনের মেডিটেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে এরা আসলে কি হাসিল করতে চাইছে, কাদের মদদে এই ধরনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলো এসব খতিয়ে দেখা জরুরি।

তিনি আশা প্রকাশ করে পোস্টের শেষে বলেন, আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন