পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকার সীমান্ত সড়কসহ ১৭ প্রকল্প একনেকে

fec-image

নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পসহ মোট ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন পেতে পারে।

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে নদী, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে মোট ১৭টি প্রকল্প উত্থাপন করা হচ্ছে, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তালিকায় ১৮টি প্রকল্প থাকলেও শেষ মুহূর্তে ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাদ দিয়ে ১৭টি প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়েছে।

একনেকে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়ের) প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এই বছরই শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে এটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানে নিরাপত্তা, পর্যটন ও আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করার লক্ষ্যে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প তিন পার্বত্য জেলার পানছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাইছড়ি ও বিলাইছড়ি, থানচি ও রুমা উপজেলা জুড়ে বিস্তৃত।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (আরএইচডি) কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি পার্বত্য জেলাগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলোর সঙ্গে ৫৪০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা বিধান, স্বল্প সময়ে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা ও কৃষিজাত পণ্যের বিপণন ব্যবস্থা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় নিরাপদ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

এই প্রকল্পে দুর্গম ভূখণ্ডে কাজ করার জন্য অত্যাধুনিক প্রকৌশল ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ২৭২.১৩ কিলোমিটার নমনীয় পাকা রাস্তা এবং ১৪.০৩ কিলোমিটার অনমনীয় পাকা রাস্তা রয়েছে। এটি শুধু পিচঢালা রাস্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে স্কুল ও হাসপাতাল থেকে শুরু করে পানি সরবরাহ কেন্দ্র এবং পর্যটকদের বিশ্রামাগার পর্যন্ত ৩৬টি সহায়ক স্থাপনার উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: একনেক, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সরকার
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন