‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া ইসলামের তাওহিদ বিরোধী : ডা. জাকির নায়েক


আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামিক চিন্তাবিদ ডা. জাকির নায়েকের মতে, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বা এই স্লোগান দেওয়া ইসলামের তাওহিদ বিরোধী।
ডা. জাকির নায়েক মনে করেন, শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্যই নয়, বরং কোনো হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও এই গানটি গাওয়া উচিত নয়, কারণ এর স্তবগুলো মূল ধর্মের শিক্ষার পরিপন্থী।
তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, গানটিতে হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন দেবী যেমন লক্ষ্মী ও দুর্গার স্তুতি করা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপাসনা বা স্তুতি করা শিরক বা মহাপাপ।
তিনি দাবি করেন, ১৮৭০-এর দশকে রচিত এই গানটি মূলত একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সৃষ্টি এবং এটি বর্তমানে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
যে কোনো ধর্মের অনুসারীদেরই নিজের ধর্মের মূল বিশ্বাসের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো দেব-দেবী বা শক্তির আরাধনা করা থেকে বিরত থাকা উচিত বলে মনে করেন ডা. জাকির নায়েক।
উল্লেখ্য, তাওহিদ হলো ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি এবং বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু, যার অর্থ হলো- একত্ববাদ বা আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে বিশ্বাস করে আল্লাহরই এবাদাত করা।

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলোতেও ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পর এবার রাজ্যের সমস্ত মাদরাসাগুলোতেও বাধ্যতামূলকভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার এক প্রশাসনিক আদেশে জানিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত মাদরাসায় প্রতিদিন ক্লাস শুরুর আগে এই গানটি গাইতে হবে।
এর আগে গত সপ্তাহে একই ধরনের একটি নির্দেশনা জারি করে রাজ্যের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (২১ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন মাদরাসা অধিদপ্তর থেকে জারি করা সর্বশেষ আদেশে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্বীকৃত, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি মাদরাসার ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রতিদিন সকালের প্রাক-ক্লাস সমাবেশ বা দৈনিক প্রার্থনার সময় শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে এই গানটি গাইতে হবে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন সব স্কুলের জন্য একই নিয়ম জারি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর একটি অনলাইন পোস্টে পূর্ববর্তী সমস্ত রাজ্য নির্দেশনা বাতিল করার ঘোষণা দিয়ে জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল ও মাদরাসা শিক্ষা দপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর আগে সকালের সমাবেশে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।
‘বন্দে মাতরম’ সম্পর্কে
‘বন্দে মাতরম’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত একটি দেশাত্মবোধক গান। নিচে গানটির প্রথম দুটি স্তবক হলো-
বন্দে মাতরম্!
সুজলাং সুফলাং মলয়জশীরতাং
শস্যশ্যামলাং মাতরম্!
শুভ্রজ্যোৎস্নাপুলকিতযামিনীং
ফুল্লকুসুমিতদ্রুমদলশোভিনীং
সুহাসিনীং সুমধুরভাষিনীং
সুখদাং বরদাং মাতরম্।। ১ ।।
বন্দে মাতরম্!
কোটি-কণ্ঠ-কল-কল-নিনাদ-করালে
কোটি-ভুজৈধৃত-খরকরবালালে
অবলা কেন মা এতো বলে!
বহুবলধারিণীং নমামি তারিণীং
রিপুদলবারিণীং মাতরম্।। ২ ।।
এই বিখ্যাত গানটির প্রথম দুটি স্তবকই ভারতের ‘জাতীয় গান’ (National Song) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে।
উল্লেখ্য, মূল গানটি সংস্কৃত ও বাংলা মিশ্র ভাষায় রচিত।
উৎস : উইকিপিডিয়া
















