বিজেপির ‘বহিষ্কার নীতি’ বাস্তবায়নে সব রাজ্যে বিশেষ টাস্কফোর্স


ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ‘বহিষ্কার নীতি’ প্রণয়নের পর ওই নীতির আওতায় সব রাজ্যকে প্রতিটি জেলায় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব টাস্কফোর্সের কাজ হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে ফেরত পাঠানো।’ পাশাপাশি নিখোঁজ বিদেশি নাগরিক বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রতি মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
এর আগে ২০২০ সালের ৩ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লোকসভায় এক লিখিত বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘কিছু অনুপ্রবেশকারী গোপন ও কৌশলী উপায়ে ভারতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এর প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশ সীমান্তের কিছু অংশে জটিল নদীবেষ্টিত ভূপ্রকৃতি রয়েছে, যেখানে সীমান্ত বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়।’
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশকে হঠাৎ তালিকা দিয়ে পুশ ইনের উদ্যোগের কথা জানানো হয়। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন এ নিয়ে জানতে চাইলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের প্রসঙ্গ টানে। ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশকে ২ হাজার ৩৬৯ জনের তালিকা দিয়ে তা যাচাইয়ের জন্য বলে। এরই মধ্যে পুশ ইন শুরু করে ভারত। বাংলাদেশ ওই তালিকার ভিত্তিতে পরিচয় শনাক্তকরণসহ প্রয়োজনীয় কাজ করতে থাকে। অবশ্য চলতি বছরের এপ্রিলে আগের তালিকা হালনাগাদ করে ভারত এখন ২ হাজার ৮৬২ জনের কথা বলছে।
বিএসএফ পুশ ইন অব্যাহত রাখার পরিপ্রেক্ষিতে মে মাসের শেষ দিকে পুশ ইনের তালিকার বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানিয়ে ভারতকে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ। এতে উল্লেখ করা হয়, তালিকায় থাকা ৬৩৪ জনের জন্য ট্রাভেল পারমিট (টিপি) দেওয়া হয়েছে। ৩৬১ জনের বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় তাঁদেরও টিপি দেওয়া হবে ভারতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে। তালিকার ৮৭৯ ব্যক্তির শুধু নাম আছে। ৩৫৮ জনের নাম তালিকায় দুবার এসেছে। ২৫২ জনের জাতীয়তা শনাক্তকরণের কাজ অব্যাহত আছে।
উৎস : দ্য হিন্দু

















