টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে

রুমায় সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত

fec-image

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ৬ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড় ধস, সড়ক ভেঙে যাওয়া এবং সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শতাধিক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে এবং দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

উপজেলার বেথেলপাড়া থেকে মুনমামপাড়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস ও মাটি সরে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একইভাবে রুমা–বগালেক–কেওক্রাডং সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড় ধসে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া রুমা–বান্দরবান সড়কও গত ৮ জুলাই থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ সড়কের অন্তত তিনটি স্থানে পাহাড় ধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে এবং অধিকাংশ অংশে মাটি ধসে বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বান্দরবান জেলা সদরের সঙ্গে রুমার সব ধরনের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

গত শনিবার থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে সচল হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

ভারী বৃষ্টির মধ্যেও রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী বন্যায় কবলিত গ্রস্ত পরিবার ও ভাঙ্গন এলাকায় পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে

টানা ছয় (৬ জুলাই-১১ জুলাই) দিনের ভারি বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত শতাধিক পরিবার সদস্যদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ চলছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত পরিবার সদস্যদের শুকনো খাবার ও রান্না খাবার বিতরণ করা হয়েছে ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেদের উদ্যোগে কর্মচারীদের খাবার বিতরণ করেছে। তার সাথে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত পরিবার সদস্যদেরও চিকিৎসা সেবা প্রদান অব্যাহত রাখছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল আল হাসান।

রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিনু বলেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি পাহাড় ধসে জুমচাষ ও বিভিন্ন ফলবাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

রুমা বাজারের মারমা লাইনে বাসিন্দা বাসন্তী দাস জানান, গত ৭ জুলাই রাত থেকে তার ভাড়া বাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। কবে নাগাদ নিজের বাড়িতে ফিরতে পারবেন, তা তিনি জানেন না। বাসন্তী দাসের মতো অসংখ্য পরিবার একই দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে- বন্যায় কবলিত মানুষেরা।

রুমা বাজারে মেচিংথুই নিজ ঘর ধোয়া মুছা কাজ করছেন উল্লেখ করে বলেন বন্যায় ঘর ডুবে যাওয়ার সময় টানা দুইদিন কোন খাবার খেতে পারেননি।

এদিকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় রুমা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাল, ডাল, তেল, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম ক্রমেই বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়ক সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং দুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: রুমা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন