কাপ্তাই হ্রদে জেলেদের কান্না কেউ শুনেনা

fec-image

কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস ধরে মাছ ধরা বন্ধ। ঋণের বোঝা, পরিবার-পরিজনের হাহাকার নিয়ে চলছে জেলেদের জীবন চাকা।

দেশের বৃহৎ পরিকল্পিত হ্রদটি রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই হ্রদ নামে পরিচিত। ১৯৬০ সনের পর হতে এ হ্রদে সরকার মাছের প্রজনন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন কাজের ওপর নির্ভর করে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করে। সরকার এ হ্রদের ওপর বেশি উপার্জন করে থাকে মৎস্য চাষের ওপর।

বছরে তিন মাসের জন্য মাছের প্রজননের ওপর নির্ভর করে সরকার সকল ধরনের মাছ শিকার একেবারে বন্ধ রাখে। এ তিন মাস মাছ ধরা বন্ধকালীন জেলেদের ত্রিশ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়ে থাকে।

মাছ শিকার বন্ধকালিন কাপ্তাই জেলেপাড়ায় সরজমিনে গেলে দেখা যায় জেলেদের জীবনের করুন-হালচাল আর নাজানা কান্নার চিত্র।

জেলে পাড়ার অধিবাসী প্রিয় লাল জলদাশ বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও তিন মাস সকল ধরণের মাছ ধরা সরকার বন্ধ করে রাখে। বন্ধকালীন সময়ে আমরা বেকার হয়ে যাই। যে উপার্জন হয় তা দিয়ে একবেলা খাই অন্য বেলা না খেয়ে থাকি। নব্বাই হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। প্রতি সপ্তাহে ঋণের বোজা টানতে হচ্ছে। এর মধ্যে সংসারে স্ত্রী-শন্তান নিয়ে বহুকষ্ঠে দিন কাটাচ্ছি।

রিপন জলদাশ বলেন, ত্রিশ কেজি করে এ বন্ধে সরকারের পক্ষ হতে আমাদের ভিজিএফ চাল দেওয়ার কথা হলেও দীর্ঘ দেড় মাস ধরে কোন কিছুই পাইনি। এর মধ্যে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি। প্রতি সপ্তাহে কিস্তি টানতে হচ্ছে। ছেলে-মেয়ের স্কুল খরচ, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে টাকা শেষ কি করব কিছুই বুঝতে পারছিনা।

প্রিয় লাল জলদাশ ও রিপন জলদাশ বলেন, আমাদের দুঃখ কষ্ঠ ও কান্না কেউ শুনে না আমাদের খোঁজ খবরও কেউ রাখেনা। আমরা জেলেরা বছরে নয়টি মাস হ্রদে মাছ শিকার করে কোটি কোটি টাকা উর্পাজন করে দিচ্ছি কিন্ত তার তুলনায় আমরা কিছুই পাচ্ছিনা।

তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ থাকায় আমরা কি ভাবে চলছি বা আমাদের সংসার কি ভাবে চলছে কেউ কখনও খবর নিতে আসেনি। সকল জেলেরা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, ভাই আপনেরা আমাদের পক্ষ হতে সরকারের নিকট একটি কথা জানান, তা হল সরকার তিন মাস লেকে মাছ শিকার বন্ধকালীন আমাদের কিছু পরিমাণ ঋণ   ও ভিজিএফ চাল সঠিক মাপ অনুযায়ী দিলে আমরা চলতে পারব। না হয় আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মরণ ছাড়া আর কিছুই থাকবেনা।

এদিকে নির্বাহী অফিসার আশ্রাফ আহমেদ রাসেল বলেন, জেলেদের ভিজিএফ চাল এখনও আসেনি। কিছুটা সময় লাগছে আসলে আমরা দিয়ে দিব। মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন কাপ্তাই ব্যবস্থাপক আমির হোসেন ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, কিছু সময় দেরি হচ্ছে। আর জেলেদেরও কষ্ট হচ্ছে আগামীতে আমরা তাদের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + eight =

আরও পড়ুন