কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নামে জমি জবর দখল করার দায় স্বীকার!

fec-image

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নামে নিরীহ মানুষের শত শত একর জমি জবরদখল ও মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ জনগণকে হয়রানির দায় স্বীকার করেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সাবেক অর্গানিয়ার (পরিচালক) আনোয়ার আল হক।

তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন। নিম্নে ফেইসবুকে দেওয়া পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি লিখেছেন –

`কোন কোন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান মনে করে আমি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এ কর্মরত অবস্থায় যা করেছি তা কি সঠিক করেছি? কেন ওই সব কাজ করেছি?নিজের সিদ্ধান্তে না কি প্রতিষ্ঠান এর জন্যে? একজন ভাই ফেসবুকে আমার নাম ধরে লেখার জবাবে লিখলাম—-

আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি আমার নাম লিখে যা উদ্বৃতি করেছেন তা ১০০% সঠিক। আমি তখন মাদক আসক্ত ন্যায় কোয়ান্টাম আসক্ত তথা মহাজাতক আসক্ত। মহাজাতক যা বলতেন আমি মনের আনন্দে তাই করেছি। জমি দখল, পাহাড় দখল, ভুয়া মামলা দিয়ে খলিল ভাই, ছালাম কন্ট্রাক্টর কে জেলে ভরানো হেন আকাম নাই করিনি। আমি যদি এ গুলো লিখে রাখি তাহা হইলে এক সময় মানুষ জানতে পারবে মহাজাতক এর আসল স্বরূপ।

আল্লাহকে হাজির নাজির করে বলছিন এক বর্ণ মিথ্যা নয়, এটা কোন ক্ষোভ, আক্রোশ থেকে নয়। আমি চাই পুরো জাতি জানুক মহাজাতক কেমন সেবক? বা সাধকই নয়, সে কোন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন, মহাজাতক এর কারো উপকার বা অউপকার করার ক্ষমতা নাই। তার আছে আবেগ প্রবণ মানুষের আবেগকে ব্যবহার করার অসাধারণ দক্ষতা, দারুণ বাচনভঙ্গি যা দিয়ে তিনি যে কোন মানুষকে বশ করতে পারেন। অবশ্যই মহাজাতক একজন মেধাবী মানুষ, তবে আফসোস সেই মেধাটা মহাজাতক প্রতরণার কাজেই শুধু ব্যবহার করলেন। অবশ্যই সফল হলেন প্রতারক হিসাবেই। গভীর রাতে নীরব পাহাড়ে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করতাম–

হটাৎ করে মনে আসতো আচ্ছা আমি তো নাবালক অবস্থা থেকে নিয়মিত নামাজি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করা মানুষ । আমি কি এগুলো সঠিক করছি? আমিও তো মানুষ মাঝে মাঝে এ গুলো মনে আসতো তখন সিদ্ধান্ত নিতাম এবার মহাজাতক লামায় আসলে এই সব বিষয় নিয়ে গুরুর সহিত কথা বলবো।

যথারীতি তিনি আসলে যখন ঘরোয়া আলোচনা করতাম আমি সরাসরি আমার ভূমি দখল বিষয় সহ নানা কাজ এর আপত্তি জানালে তিনি বলতেন – এই জমি কি আপনি নিজের জন্যে দখল করছেন! আমার জন্যে দখল করছেন! কোয়ান্টাম কি রাবার বাগান মালিক? কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কি রাবার বাগান করবে? ( পাঠক, তখন কোয়ান্টাম রাবার বাগান বিরোধী ছিলো, এখন পুরোদস্তর রাবার বাগানের সত্যিই মালিক, ৩০০ নং বড় বমু মৌজায় বিশাল রাবার বাগান কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এর?)

আপনি এ গুলো দখল বাজি কেন বলছেন? আমরা এখানে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় করবো, আবাসিক ছাত্রদের খেলার মাঠ লাগবে, জায়গা কোথায়? আপনি যা করছেন তা শিক্ষার জন্যে, কল্যাণ এর জন্যে করছেন। এতিম-অনাথদের জন্যে করছেন। শুনেন আনোয়ার এতিম এর মাথায় যার হাত থাকে তার মাথায় স্বয়ং আল্লাহর রহমতের হাত থাকে। যান যান কাজ করেন, মহাজাতক বলে চলেছেন আপনি (আনোয়ার) যে কত বড় কাজ করছেন, কত মহৎ কাজ করছেন আমার ( মহাজাতক) আফসোস আমি ( মহাজাতক) আপনাকে ( আনোয়ার) কে তা বোঝাতে পারছি না। আমি (মহাজাতক) দোয়া করি আল্লাহ পাক নিজ হাতে আপনাকে এই সমস্ত কাজের পুরস্কার দিন।

আমি আল্লাহর হাতে পুরস্কার পাবার আশায় আরও দৃঢ়ভাবে ওই সমস্ত কাজ অব্যাহত রাখতাম।

সত্যিই আমি ভাগ্যবান। আমি আজও জীবিত কৃত অন্যায় এর তওবা করে আল্লাহর নিকটে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ আমি পেয়েছি।

সম্মানিত পাঠক, আমার কোয়ান্টামীয় সকল অপকর্মের জন্যে আমি শুধু অনুতপ্তই নই মনে প্রাণে সকলের নিকট ক্ষমা প্রার্থী।

আমি বিশ্বাস রাখি, মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল, তিনি ক্ষমাকারীকে ভালোবাসেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক আমাকে ক্ষমা করে দিবেনই।
আমিন।’

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + five =

আরও পড়ুন