জনগণ রায় দেবে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে অসাম্প্রদায়িক : মির্জা ফখরুল


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন, কিন্তু এখন বাংলাদেশকে একটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার বিভিন্ন রকমের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা আশা করছেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ আরেকবার রায় দেবে যে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে অসাম্প্রদায়িক। তারা বাংলাদেশি জাতীয়তা বিশ্বাস করে।
সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা এবং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থিতা হিসেবে মনোনয়নের বিষয়টি তুলে ধরেন। আগামী নির্বাচনে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সর্বাত্মক সহযোগিতা চান এবং তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার কথা জানান বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যখন পিআরের বিষয়টা সামনে আসছে, তার জন্য আন্দোলন হচ্ছে তখন স্বাভাবিকভাবে আপনারা যারা অতিদ্রুত একটা নির্বাচন চান দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য, গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করার জন্য, গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট গঠন করার জন্য, তারা আমরা উদ্বিগ্ন হই। সেজন্য আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি যে, এই বিষয়টা (পিআর) আগামী পার্লামেন্টের ওপরে ছেড়ে দিতে হবে। আগামী পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা যদি মনে করেন যে, এটা (বিদ্যমান ভোট পদ্ধতি) থেকে পিআরে যাবে, জনগণ যদি মনে করে যে, পিআরে যাবে, যাবে। কিন্তু এখন তো এটা সম্পর্কে কিছুই জানে না।
তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতির সমস্যা হচ্ছে, ব্যক্তির যে স্বাধীনতা থাকে তার নির্বাচিত রিপ্রেজেন্টেটিভ চুজ করার সেই স্বাধীনতাটা দলকেই চুজ করতে হয়। অর্থাৎ ওই দলকে ভোট দিতে হবে। দল রিপ্রেজেন্টেটিভ নমিনেশনের পরে তাদেরকে পার্লামেন্টে আসার জন্য। এটার সঙ্গে আমাদের দ্বিমত। আমরা জানি যে, যে ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে চাচ্ছেন জনগণ, তারা তাদের পছন্দ মতো ব্যক্তিকে ভোট দেবে সেটা দলের লোকই হবে। এই বিষয়গুলো আমি অবতারণ করলাম এই জন্য, এগুলো আমাদের সামনে আসছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটা জিনিস সবসময় মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশের সমাজের রাষ্ট্রের জাতির আত্মা বা সোল। এই আত্মা ১৯৭১ সালের আমরা যে অসাম্প্রদায়িক একটা বাংলাদেশ নির্মাণ করার জন্য যুদ্ধ করেছি, আমাদের যে সোল আছে- এই সোলকে আমরা নষ্ট হতে দিতে চাই না। আজকে যেকোনো ভাবেই হোক একটা প্রচেষ্টা আছে যে, ভিন্নভাবে চিন্তা-ভাবনা করার, সেই ভিন্নভাবে চিন্তা-ভাবনা করার কোনো অবকাশ এখানে আছে বলে আমরা মনে করি। আমরা সবাই একটা জাতি এটাকে আলাদা করার সুযোগ নেই।
খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা আগামী নির্বাচনে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি, আপনাদের পুরো সম্প্রদায়ে। আমরা মনে করি যে, জন গোমেজ শুধু আপনাদের প্রতিনিধি নন, তিনি আমাদের প্রার্থী। তিনি বিএনপি’র ভালো জায়গায় ছিলেন এবং আছেন। আপনাদের যে দাবি, যেটা আপনারা আশা করেছেন দলীয় মনোনয়নের জন্য, নিঃসন্দেহে আমি আপনাদের এই যে পত্রটি আমি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়ে দেবো এবং সেটাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখবো- এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে পরিবর্তনের জন্য কিছু কিছু জায়গায় সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে অনেকগুলো, সেই সংস্কার কমিশনগুলো তাদের মধ্যে আলোচনা শেষ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতামত নিয়ে তাদের আলোচনা শেষ হয়েছে। আগামী ১৭ তারিখে আমরা সবাই আশা করছি, যেগুলোতে একমত হয়েছে- সেগুলোতে সব দল স্বাক্ষর করবে এবং যেহেতু একমত হতে পারেনি, সেগুলো আসন্ন নির্বাচনে সে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তাদের ম্যানিফেস্টো হিসেবে নিয়ে আসবে জনগণের সামনে, সেটাকে প্রস্তাব আকারে তারা তুলে ধরবে- সেভাবেই তারা চিন্তা করেছেন।
খ্রিষ্টান ল’ইয়াস এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আলবার্ট রোজারিও’র সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ খ্রিষ্টান ফোরামের অনিল লিও কস্তার সঞ্চালনায় সভায় বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও, পিউস কস্তা, রীতা রোজলীন কস্তা, প্রতাপ আগাস্টিন গোমেজ, শংকর প্যাট্রিক কস্তা, আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, বিএনপি’র ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদক জন গোমেজ, রমেশ দত্ত, নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল বড়ুয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

















