পানছড়ির শনটিলায় গৃহবধুর লাশ উদ্ধার আটক-১

CONTILA PIC

শাহজাহান কবির সাজু, পানছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গৃহবধু ৩নং পানছড়ি ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের শনটিলা গ্রামের মো: জারু মিয়ার স্ত্রী শাহানা বেগম (৩৪) বলে জানা যায়। বুধবার রাত টার দিকে পানছড়ি থানা পুলিশ শনটিলা গ্রামের শাহানার নিজ ঘরের মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, গরু ব্যবসায়ী চারু মিয়ার দুই সংসার। তার প্রথম সংসারে রয়েছে স্ত্রী জাহানারা, তিন ছেলে ও এক মেয়ে। অপর দিকে দ্বিতীয় সংসাবে রয়েছে স্ত্রী শাহানা। শাহানার সংসারে কোন ছেলে মেয়ে নাই।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শাহানাকে বিয়ের পর পরই জারু মিয়ার সংসারে নেমে আসে সুখের আলো। শাহানা নিজেই পরিশ্রম করে নিজ বাড়ির আশ-পাশ এলাকায় শাক-সবজি সহ বিভিন্ন ফল-ফলাদির বাগান সাজিয়ে স্বামীর সংসারে সুখের আশায় স্বামীর ব্যবসায় পূজি বিনিয়োগে সহায়তা দেয়। শাহানার এসব কর্মকান্ডে ফুঁসতে থাকে তার সতীন জাহানারা ও ছেলেরা। এর মাঝে বড় বৌ ও তারা ছেলেদের কু-পরামর্শে মতি-গতি পাল্টাতে থাকে জারু মিয়া। শুরু হয় শাহানার উপর অত্যাচার। কয়েকবার শালিশানরা বিচারও করেছে। বিচারকরা বড় বৌ ও তার ছেলেদের আলাদা বাড়িতে থাকার সিদ্ধান্ত দিলেও দু’পরিবারের ঘরের দুরত্ব ছিল ২৫ গজের মধ্যেই।

ঘটনার দিন ২৩/৬/১৫ ইং বুধবার বিকালে জারু মিয়া তার শ্যালক জয়নালকে স্থানীয় চা দোকানে বলে তোর বোনকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। জারু খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছোট বৌয়ের খোঁজে। এদিক-ওদিক অনেক খোজাখুজির পরও জারু অস্থির তার স্ত্রী শাহানা কোথায় গেল। এদিকে শ্যালক জয়নাল ও তার সহপাঠিরাও ২৪/৬/১৫ ইং বুধবার আত্মীয় স্বজনের বাড়ি থেকে সম্ভ্যাব্য সব জায়গা খুজে বেড়ায়। এরই মাঝে জারু জয়নালকে নিয়ে অনেক বৈদ্য-কবিরাজের কাছে গেলেও কেউ বুঝতে পারেনি জারুর নাটকীয়তা।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জয়নাল দেখতে পায় তার বোনের ঘরে তালা ঝুলানো। এরি মাঝে এলাকার হোসেন মেম্বারের সাথে আলাপ করে ঘরের তালা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাঁধ সাধে বড় বৌ ও তারা ছেলেরা। এর মাঝে জারু মিয়া জয়নালকে মোবাইল ফোনে জানায়, জয়নাল বৈদ্য বলেছে তোর বোন ঘরের মাটির নিচে আছে। জয়নাল ও তার সহযোগিদের এ সময় বাঁধা দিতে দা নিয়ে তেড়ে আসা জাহিদুলকে সবাই আটক করে স্থানীয় হিল আনসার ক্যাম্পে খবর দিলে আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে জাহিদুল নিজ হেফাজতে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেয় এবং ঘরের তালা ভাঙ্গার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেয়। পরে ঘরের তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে চৌকির নিচে মাটি সরিয়ে সাহানার মরদেহ দেখতে পায়। ঘটনা বুঝতে পেরে জারুর পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এদিক সেদিক দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আ: জব্বারের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা দুর্গম শনটিলায় গিয়ে মাটি খুড়ে মুখে বালিশ চাপা শাহানার মরদেহ উদ্ধার করে।

শাহানার এ করুণ মৃত্যুতে পুরো শনটিলা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীর আত্মচিৎকারে পুরো এলাকা ভারী করে তোলে। এ সময় দশনার্থীদেরও চোখের জল মুচতে দেখা যায়। সবার একটাই কথা এত ভালো ভাবে স্বামীর সংসারে থেকেও কেন এমন করুণ মরণ হলো। এলাকাবাসী এর রহস্য উৎঘাটনের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার চায়।

লাশের সুরতহাল তৈয়ারকারী পানছড়ি থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো: আরিফুর রহমান জানান, শাহানার মাথায় ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের কয়েকটি কোপের চিহ্ন রয়েছে এবং মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়েছে।

খবর পেয়ে পানছড়িতে ছুটে আসেন খাগড়াছড়িতে সদ্য যোগ দেয়া পুলিশ সুপার মো: মজিদ আলী (বিপিএম, সেবা)। তিনি শাহানার আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় গন্য-মান্যদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলেন। তিনি পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেন।

পানছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আ: জব্বার জানান, এ ব্যাপারে শাহানার ভাই জয়নাল শনটিলা গ্রামের আসকর আলীর ছেলে জারু মিয়া (৫৫, তার বড় স্ত্রী জাহানারা, ছেলে জাহাঙ্গীর ও জাহিদুল আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে। এরি মাঝে জাহিদুলকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে তিনি জানান।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন