ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

fec-image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেওয়ায় বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর স্থানীয় জনতার তোপের মুখে পড়ে অভিযুক্ত নেতা এলাকা থেকে পালিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী জেলার সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন কাওসার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে তিনি স্ত্রী জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছিলেন। তবে প্রথমবার ভোটার হওয়ায় জহুরা উৎসাহের সাথে সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

বিকেলে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীর ভোট দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন কাওসার। জহুরা তাঁর জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার কথা স্বীকার করলে কাওসার ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেন এবং তৎক্ষণাৎ বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। এই অমানবিক খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে কাওসারকে আটক করে মারধর করেন। সে সময় স্ত্রীকে দেওয়া তালাক প্রত্যাহার করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে তিনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান। বর্তমানে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জহুরাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন কাওসার। তিনি মাদকাসক্ত বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল এবং বর্তমানে তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে।

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তাঁর সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: আওয়ামী লীগ, তালাক, নির্বাচন
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন