আদিবাসীদের ব্যাপারে সরকারের চোখে ছানি পড়েছে: পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য
ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য বলেছেন, ‘আদিবাসীদের ব্যাপারে সরকারের চোখে ছানি পড়েছে, যার ফলে সরকার আদিবাসীদের প্রতি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দেখতে পাচ্ছেনা। এর ফলে রাষ্ট্রের আদিবাসী, সংখ্যালঘূ, গরীব, শ্রমিক জনগণই সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। একশ্রেণির মানুষ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে আদিবাসীদের কাছে চাঁদাবাজিও করছে।’
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
উত্তরবঙ্গের উপজাতিদের উপর চলমান সহিংসতা, উচ্ছেদ, হত্যা, ধর্ষণের প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার দাবিতে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও কাপেং ফাউন্ডেশন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
তিনি বর্তমান সরকারকে বর্ণবাদী সরকার আখ্যায়িখ করে বলেন, ‘যেখানে সারাদেশের আদিবাসীরা শান্তির সাথে বসবাসের জন্য প্রতিনিয়ত দাবি জানাচ্ছে, সরকারের সাথে আলাপ আলোচনার চেষ্টা করছে সেখানে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশী বিদেশী নাগরিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে শর্ত জুড়ে দিয়ে এদেশেরই নাগরিকদের প্রতি বর্ণবাদী আচরণ করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আদিবাসীরাও জীবনবাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে অথচ আজ এই স্বাধীন দেশে আজও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা পায় নি।’
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘আদিবাসীদের সব সমস্যাই ভূমি কেন্দ্রিক। কিন্তু সরকার আদিবাসীদের শত দাবি স্বত্ত্বেও এখনো পর্যন্ত সমতলের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠন করার উদ্যোগ নেয় নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন তৈরি করলেও সেটি যথাযথভাবে কার্যকর করছেনা। তিনি আদিবাসীদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিসহ আদিবাসীদের প্রতি অন্যায় অত্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ‘আমরা যখন এই সংবাদ সম্মেলন করছি তখনই মোবাইলে খবর পেলাম যে, দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আমলাকাঠা সাঁওতাল গ্রামের একটি কালি মন্দির দখলের জন্য মন্দিরের জায়গায় ভূমিদস্যুরা স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করেছে এবং গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত সরকারিভাবে তৈরি আখের ফার্ম (বাগদা ফার্ম) এর প্রায় ২৪০০ একর জায়গা ভূমিদস্যুরা দখল করতে শুরু করেছে, যেখানকার প্রায় ১৫০০ একর জমিই আদিবাসীদের জমি। সরকার যখন এটি তৈরি করে তখণ বলেছিল কোনদিন এই ফার্ম বন্ধ হলে আদিবাসীদের তাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং সকলের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্র আসলে কার? এই রাষ্ট্র কি আদিবাসী, সংখ্যালঘূদের রাষ্ট্র বলা যাবে। তিনি আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে বলেন, ছয় সাত বছর হয়ে গেল সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এই সরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার এ ব্যাপারে এক লাইনও কোন কিছু লিখেছে কিনা সন্দেহ আছে। তিনি রাষ্ট্রকে আদিবাসীদের প্রশ্নে সংবেদনশীল হওয়ার ও আদিবাসীদের ও দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করার দাবি জানান।’
কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা এর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, রুহীন হোসেন প্রিন্স, কেন্দ্রীয় সদস্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, নুমান আহমদ খান, নির্বাহী পরিচালক, আইইডি।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা দীপায়ন খীসা, অজয় এ মৃ, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, সংগঠক ও মানবাধিকার কর্মী হিরণ মিত্র চাকমা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মানিক সরেন, দপ্তর সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব চঞ্চনা চাকমা, আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত ধামাই, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিভূতি ভূষণ মাহাতো প্রমুখ।


















