কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ভাদিতলা দরগাহপাড়ায় ছেলেদের মারধরে নুরুল হুদা (৭০) নামের এক বৃদ্ধ পিতার মর্মান্তিক মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উক্ত এলাকার বাসিন্দা নুরুল হুদার সঙ্গে তার দুই ছেলে এবং তাদের স্ত্রীদের পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নুরুল হুদার মৃত্যু হয়। স্বজনরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকও মৃত ঘোষণা করেন।
পরে নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
নিহতের অপর ছেলে মাহাবুব আলম ও কন্যা মুরশিদা আক্তার উপস্থিত লোকজন ও গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ করে বলেন (ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত), তাদের দুই ভাই শফি আলম ও আবুল কালাম এবং তাদের স্ত্রী ও শ্বশুরপক্ষের আত্মীয়ের কিল-ঘুষিতে তাদের বৃদ্ধ পিতার মৃত্যু হয়েছে। তারা তাদের যাবজ্জীবন শাস্তি দাবি করেন।
ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদা জানান, নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রাতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত জানা যাবে।
এদিকে নিহতের স্ত্রী, অপর ছেলে-কন্যারা প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলার পরও পুলিশ কোনো অভিযুক্তকে তদন্তের স্বার্থে হেফাজতে না নেওয়ায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরপর প্রতিবেশী ও স্বজনরা অভিযুক্তদের তাদের ঘরে আটকে রাখে এবং পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। ঐ সময় অভিযুক্ত এক ছেলের হাতে তরতাজা রক্তাক্ত ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্নও দেখেও অভিযুক্ত কাউকে পুলিশ হেফাজতে না নেওয়ায় প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অপরদিকে ঘটনার পর থেকে একটি চক্র ‘স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে’ প্রচার করে ঘটনাটি স্বাভাবিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠছে।