গণতান্ত্রিক কর্মসূচীতে হামলা এবং বিতর্কিত রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম বন্ধ কর

IMG_1501

ডেস্ক নিউজ:

১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যায়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ১০ই জানুয়ারি, ২০১৫ ইং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক আহুত সকাল-সন্ধ্যা সড়ক ও নৌপথ শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচিতে হামলা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের সকল কার্যক্রম বন্ধের দাবীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখা এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জেমশন আমলাইয়ের সভাপতিত্ত্বে এবং সাধারন সম্পাদক কেরিংটন চাকমার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ঢাকা মহনগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সুলভ চাকমা ঢেঙা, তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শুভকর চাকমা, স্কুল ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক নিপন ত্রিপুরা, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অনন্ত ধামাই, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভানেত্রী চঞ্চনা চাকমা এবং সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী মংটিন মারমা।

পিসিপি, ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সুলভ চাকমা ঢেঙা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসন ব্যবস্থা যদি পাহাড়ীদের নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা দিতে না পারে তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি কর্তৃক ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনকে প্রয়োজনে আবারও অস্ত্র কাঁধে নিয়ে আরো শক্তিশালী ও সংহত করা হবে।”

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘বিগত ১০ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে পিসিপি সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালনকালে আওয়ামী লীগের রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি দীপংকর তালুকদারের উস্কানিতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পিসিপি কর্মীদের উপর হামলা চালায়। আবার গতকাল ১১ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও ভেদভেদী নামক এলাকায় তরুণ বিকাশ চাকমা (২৬) কে সেটেলার বাঙালিরা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম করে। আর থেকে থেকে বনরুপা, কেকেরায় সড়ক, তবলছড়ি ও চম্পকনগর এলাকায় পাহাড়ীদের উপর সেটেলাররা হামলা চালিয়েছে। ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও কিভাবে সেটেলাররা সংঘটিত হচ্ছে? তাদের শক্তি কি রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি? তাহলে ১৪৪ ধারা কি শুধুমাত্র পাহাড়ীদের জন্য?

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের কোনটি জরুরী- উন্নয়ন না অস্তিত্ব? চিকিৎসা বা শিক্ষার সুবিধা না অস্তিত্ব রক্ষা? কোনটিকে আমরা প্রাধান্য দেবো?এক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য দেবো এবং দেওয়া দরকার। পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯০% প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া মানসম্মত নয়। বহু আদিবাসী গ্রাম আছে যেখানে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে যেগুলো বর্গা শিক্ষক দিয়ে চলে। অনুরূপভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার অবস্থাও খুবই নাজুক। এমতাবস্থায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের সমস্যা সমাধান না করে সরকার কিভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায়? এ চিন্তা কখনো বাস্তবসম্মত হতে পারে না।”

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন