গাইবান্ধার হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গ্রেপ্তার

fec-image

গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণ করতে চেয়ে আলোচনায় আসা সেই হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)।

রোববার (১২ জুলাই) রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে পলাশবাড়ী মন্দির এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, রোববার আমাদের এখানে একটি মানি লন্ডারিং মামলা হয়েছে। এই মামলায় তিনি আসামি। সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধা পলাশবাড়ির শ্রী শ্রী কালি মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়ে কয়েক ব্যক্তি মন্দিরে প্রবেশ করেন। তারা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে বাইরে আসতে বলেন। পরে মন্দিরের বাইরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি গাড়িতে তোলা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান।

তিনি বলেন, ‘একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে আটক করেছে সিআইডি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মন্দির এলাকায় কোনো অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। মন্দির এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত ‘বৃহত্তম রামমূর্তি’ স্থাপন ও নির্মাণকাজ সেই জুনেই স্থগিত ঘোষণা করে শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কমিটি। ‘এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে’ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তখন জানিয়েছিল মন্দির কমিটি।

ওই সময় বিজ্ঞপ্তিতে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহল থেকে নানা ধরনের প্রশ্ন, মতামত ও প্রতিবাদ উঠে এসেছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এই মন্দিরের নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন, রাজনৈতিক দল কিংবা কোনো পক্ষের চাপের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন