ট্রাম্পের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করে ক্ষমতায় বসানো


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একজন বিশেষ এবং অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ব্যক্তিকে মাথায় রেখেই এই সংঘাতে জড়িয়েছিল: তিনি হলেন ইরানের সাবেক রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তেহরানে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে চালানো ইসরায়েলি হামলাটি ছিল শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে তাকে ক্ষমতায় বসানোর প্রচেষ্টার অংশ। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যুদ্ধের সূচনালগ্নে ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার কয়েকদিন পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জনসমক্ষে মন্তব্য করেন যে, ইরানের ‘ভেতর থেকেই কেউ’ দেশটির দায়িত্ব নিলে সবচেয়ে ভালো হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা এবং জনাব আহমাদিনেজাদের একজন সহযোগী জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম দিনেই তেহরানে তার বাড়িতে একটি ইসরায়েলি হামলায় তিনি আহত হন। এই হামলাটি তাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছিল। তারা বলেন, তিনি সেই হামলা থেকে বেঁচে গেলেও, অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার পর তিনি শাসন পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে মোহমুক্ত হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তার বর্তমান অবস্থান ও অবস্থা অজানা।
আহমাদিনেজাদের একজন সহযোগী দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি এই হামলাটিকে তাকে মুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ওই সহযোগী বলেন, আমেরিকানরা জনাব আহমাদিনেজাদকে এমন একজন হিসেবে দেখত যিনি ইরানকে নেতৃত্ব দিতে পারেন এবং “ইরানের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক পরিস্থিতি” পরিচালনা করার সক্ষমতা রাখেন।
জনাব আহমাদিনেজাদ ক্ষমতা ছাড়ার পর ধীরে ধীরে সরকারের এক প্রকার প্রকাশ্য সমালোচক হয়ে ওঠেন, অথবা অন্তত আয়াতুল্লাহ খামেনেইয়ের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ দেখা দেয়।
২০১৭, ২০২১ এবং ২০২৪ সালে—তিনবার জনাব আহমাদিনেজাদ তার আগের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল, যা বেসামরিক ও ইসলামী আইনবিদদের একটি গোষ্ঠী, তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়। জনাব আহমাদিনেজাদ ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা সুশাসনের অভাবের অভিযোগ এনেছেন এবং তেহরান সরকারের একজন সমালোচকে পরিণত হয়েছেন। যদিও তিনি কখনো প্রকাশ্য ভিন্নমতাবলম্বী ছিলেন না, শাসকগোষ্ঠী তাকে সম্ভাব্য অস্থিতিশীলকারী উপাদান হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে।
২০১৯ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনাব আহমাদিনেজাদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করেন এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পক্ষে যুক্তি দেন।
আহমেদিনেজাদ সম্পর্কে : আহমেদিনেজাদ রাজনীতিতে আসেন ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পরপরই। ২০০৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হন তেহরানের। এরপর ক্রমশ এগিয়ে যান তিনি। দুই বছর তেহরানের মেয়র থাকার পর ২০০৫ সালে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে আহমাদিনেজাদ ক্ষমতায় আসেন। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই তিনি তার অফিসে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন। প্রেসিডেন্ট ভবনের দরজা-জানালা খুলে দেয়া হয় সাধারণের জন্য। প্রেসিডেন্ট অফিসে সপ্তায় পাঁচ দিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ ইরানিদের চিঠি গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েই প্রেসিডেন্ট ভবনের দামি কার্পেটগুলো তেহরাণের মসজিদে দান করে দেন। এর পরিবর্তে সাধারণ মানের কার্পেট বিছানো হয় প্রেসিডেন্ট ভবনে। প্রেসিডেন্ট ভবনের ভি.আই.পি অতিথিশালা ও বন্ধ করে দেয়া হয়। একটি সাধারণ ঘরেই ভি.আই.পি দের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা রাখা হয়।
৩ আগস্ট ২০১৩ ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে বিদায় নেয়ার আগেও ইতিহাস তৈরি করে গেলেন আহমেদি নেজাদ। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ সাদেক লারিজানির কাছে লেখা এক চিঠিতে আট বছরে অর্জিত সম্পদের হিসাব দিয়ে যান তিনি। উৎস : ইউকিপিডিয়া

















