ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ : বিশ্ব মানবাধিকার দিবস এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার

fec-image

১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী দিনটি পালিত হয়ে আসছে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এবারের দিবসটি এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিগত দেড় দশকের সীমাহীন মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লবের পর এটি আমাদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও পুনর্গঠনের দিবস। কিন্তু কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারছি আমরা? কেনো বিগত দেড় দশকে অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে প্রায় দেড় বছরেও পুনর্গঠিত করা গেল না?

সাড়ে ১৫ বছরের দুঃস্বপ্ন: গুম ও রাজনৈতিক হত্যা

২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্টের শুরু পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল বাংলাদেশের মানবাধিকারের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। এ সময়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী মত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

গুমের রাজনীতি: মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই সময়ে ৭০০-এর বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। র‍্যাব ও ডিবির গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’, যেখানে বছরের পর বছর মানুষকে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা ও সংবিধানের চরম লঙ্ঘন।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড: ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যার সংস্কৃতি বিচারব্যবস্থাকে তামাশায় পরিণত করেছিল। আসক-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর।

শাপলা চত্বরের বিভীষিকা: অন্ধকার এক রাত

বিগত সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাসে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরের ঘটনা এক ভয়াবহতম অধ্যায়। অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের দীর্ঘ পদযাত্রা ও অবস্থান কর্মসূচিকে দমনে রাষ্ট্র যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে জঘন্যতম অপরাধ।

বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা: গভীর অন্ধকারে অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে গোটা মতিঝিল এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। যোগাযোগের সব পথ বন্ধ করতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে এক অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। একই অবস্থা দেখা গিয়েছে চব্বিশের ছাত্রদের আন্দোলন চলাকালেও।

গণমাধ্যমে নজিরবিহীন আগ্রাসন: মতিঝিল শাপলা চত্ত্বরের ঘটনার সত্যতা যেন বিশ্ববাসী জানতে না পারে, সে লক্ষ্যে দিবাগত রাতে দিগন্ত টেলিভিশন এবং ইসলামিক টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে এই চ্যানেল দুটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটি ছিল মুক্ত গণমাধ্যম ও তথ্যের অধিকারের ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ।

অন্ধকারে হামলা ও বিচারহীনতা: অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে রাতের আঁধারে আলেম-ওলামাদের ওপর র‌্যাব-পুলিশ তথা যৌথ বাহিনীর যে অভিযান চালানো হয়েছিল, সেখানে কত মানুষ হতাহত হয়েছিল—তার প্রকৃত তথ্য আজও রহস্যাবৃত। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এই ঘটনায় হতাহতের যে পরিসংখ্যান দিয়েছিল, তার জন্য উল্টো সংস্থাটির কর্মকর্তাদের কারাবরণ করতে হয়েছিল। শাপলা চত্বরের এই ঘটনা বাংলাদেশের মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী ক্ষত হয়ে আছে।

ভোটাধিকার হরণ: গণতান্ত্রিক বঞ্চনার তিন নির্বাচন

মানবাধিকার কেবল জীবনের নিরাপত্তা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার হওয়ার মৌলিক অধিকার। ২০১৪ সালের ১৫৪ জন এমপির বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার নির্বাচন, ২০১৮ সালের ‘নিশুতি রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের ‘ডামি নির্বাচন’—এই তিনটি প্রক্রিয়া বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক মানবাধিকারকে কবরে পাঠিয়েছিল। আসক-এর তথ্যমতে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তত ১৩৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যাতে ১৭ জন নিহত এবং ১,৮৫৯ জন আহত হন।

২০২৪-এর বিপ্লব: রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন স্বাধীনতা

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার নজিরবিহীন দমনপীড়ন চালায়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এমআইএস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনে অন্তত ৮৫৮ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন। আসক-এর মতে, নিহতদের মধ্যে ১২৯ জনই ছিল ১৮ বছরের নিচের শিশু-কিশোর। আবু সাঈদের মতো নিরস্ত্র তরুণের বুকে সরাসরি গুলি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীদের স্তম্ভিত করেছে।

মব জাস্টিস ও গণপিটুনির নতুন ক্ষত

বিগত সরকারের পতনের পর মানবাধিকারের নতুন সংকট হিসেবে দাঁড়িয়েছে ‘মব জাস্টিস’। আসক-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ১২৮ জন, যা ২০২৩ সালের (৫১ জন) তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এমএসএফ-এর তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যেই গণপিটুনিতে অন্তত ৫০ জন মারা গেছেন। মে মাসে ৩৪টি গণপিটুনির ঘটনায় ৭ জন নিহত হন। ৫ আগস্টের পর থেকে অন্তত ১৮টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর আঘাত।

পার্বত্য চট্টগ্রাম: কথিত শান্তি চুক্তি ও সাংবিধানিক বঞ্চনা

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এক সুপরিকল্পিত বৈষম্যের শিকার।

কথিত শান্তি চুক্তি: ১৯৯৭ সালের সম্পাদিত চুক্তি বাংলাদেশের সংবিধানের ধারা ২৭, ২৮ ও ২৯-এর সরাসরি পরিপন্থী। এই চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ের ১০ লক্ষাধিক বাঙালির মানবাধিকার ও সমঅধিকারকে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

শস্ত্র সংগঠনের তান্ডব: পার্বত্য অঞ্চলে ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর মতো অবৈধ অস্ত্রধারী সংগঠনগুলোর চাঁদাবাজি ও অপহরণ প্রতিদিনের চিত্র। সীমান্তে অস্থিরতা ও আরাকান আর্মি কর্তৃক বাংলাদেশি জেলেদের অপহরণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নাজুক করেছে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর হামলা: মানবাধিকার সংগঠনেগুলো বলছে, ৫ আগস্টের পর রাজশাহী, নওগাঁ ও দিনাজপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় ৭০টি পরিবারের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।

মাদকের আগ্রাসন ও অর্থনৈতিক বঞ্চনা: মানবাধিকারের নিভৃত ধ্বংস

মাদকের বিষাক্ত ছোবল আজ বাংলাদেশের মানবাধিকারের জন্য এক নতুন হুমকি। প্রতিবেশী মিয়ানমারের আরাকান আর্মি (এএ) এবং মাদক সিন্ডিকেটগুলো বাংলাদেশে ইয়াবা ও আইস পাচারের মাধ্যমে ‘মাদক সন্ত্রাস’ জারি রেখেছে।

ভয়াবহ পরিসংখ্যান: বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়নের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে প্রায় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৯৫ হাজার পিস ইয়াবা এবং ১৫০ কেজি আইস জব্দ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৮২৬ কোটি ৫২ লাখ টাকারও বেশি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে ডলার হিসেবে পাচার হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার হরণ করছে।

সামাজিক প্রভাব: এমএসএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, মাদকের আগ্রাসনের ফলে গত ৫ মাসে ২১২ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন এবং অপহরণ ও নিখোঁজ হয়েছেন ১১ জন। মাদকাসক্তির ফলে দেশের বিশাল যুবগোষ্ঠী তাদের কর্মক্ষমতা ও স্বাভাবিক জীবনের মানবাধিকার হারাচ্ছে।

সাংবাদিক নির্যাতন: মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ

বিগত সরকারের শেষ সময়ে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাথমিক পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা ও মামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে মে মাসেই ৪১টি পৃথক ঘটনায় ১০১ জন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলা, আইনি হয়রানি এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল এবং ভিত্তিহীন হত্যা মামলায় জড়ানোর প্রবণতা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্যের অধিকারের ওপর এক বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে, যা মানবাধিকারের চরম পরিপন্থী।

সীমান্ত হত্যা: দ্বিপাক্ষিক মানবাধিকারের ক্ষত

মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। গত এক বছরে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর গুলিতে বহু বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। আসক ও এমএসএফ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ মাসে সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে ২ জন নিহত ও ৪ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি পুশইন এবং অপহরণের ঘটনাও ঘটেছে। সীমান্তে এই অব্যাহত হত্যাকাণ্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল উত্তেজনা বাড়াচ্ছে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের নগ্ন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ও ফিলিস্তিন: বিপন্ন মানবতার বিশ্বচিত্র

দুর্ভাগা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের নিজ দেশে ফেরার অধিকার আজও অধরা। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের গাজায় যে বর্বরতা ও মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন চলছে, তা বিশ্ব মানবাধিকার ঘোষণার কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠনের দাবি

বাংলাদেশের মানবাধিকারের অতন্দ্র প্রহরী ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ বর্তমানে অভিভাবকহীন। গত ৭ নভেম্বর ২০২৪-এ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের একযোগে পদত্যাগের পর থেকে দীর্ঘ সময় এই শীর্ষ পদগুলো শূন্য থাকা গভীর উদ্বেগের। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানবাধিকার বঞ্চনা রোধে এই কমিশনের সক্রিয়তা অপরিহার্য ছিল, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা একে কার্যত ‘অথর্ব’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। রাষ্ট্র সংস্কারের এই সন্ধিক্ষণে, ২০২৫-এর নতুন অধ্যাদেশের আলোকে একটি স্বাধীন, সাহসী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিশন গঠন করা জরুরি। তবেই বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত হবে।

আইনের শাসন ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধারের পথনকশা

বাংলাদেশের মানবাধিকারের মুক্তি কেবল স্লোগানে, সেমিনারে বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার এবং আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগ। মানবাধিকার সংস্থা আসক ও এমএসএফ-এর সুপারিশ অনুযায়ী, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হেফাজতে নির্যাতন এবং ‘মব জাস্টিস’-এর মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথম ও প্রধান কাজ হলো—জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে একটি প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন, শক্তিশালী এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা, যা রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে কাজ করবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী মানবাধিকার বঞ্চনা দূর করতে হলে ১৯৯৭ সালের চুক্তির বৈষম্যমূলক ধারাগুলোর সংস্কার এখন অপরিহার্য। চুক্তির যে সকল ধারা পাহাড়ে বসবাসরত প্রায় ১০ লক্ষাধিক বাঙালি নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার হরণ করেছে, তা সংশোধন করে ওই অঞ্চলে বসবাসরত সকল নাগরিকের ‘সমঅধিকার’ ও ‘সহাবস্থান’ নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন টাস্কফোর্সের একপেশে ও বৈষম্যমূলক কাঠামো পুনর্গঠন করে পাহাড়ি-বাঙালি সকল বাস্তুচ্যুত মানুষের ন্যায্য পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। ভূমির ওপর মানুষের অধিকার এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের নিশ্চয়তাই হবে পাহাড়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির চাবিকাঠি।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লবে অগণিত শহিদের রক্ত তখনই সার্থক হবে, যখন বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ—ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে—আইনের সমান আশ্রয় লাভ করবে। বৈষম্যহীনতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের শপথই হোক এবারের বিশ্ব মানবাধিকার দিবসের মূল অঙ্গীকার।

লেখক :  সাংবাদিক, লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: এ এইচ এম ফারুক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন