নাইক্ষ্যংছড়িতে ড্রোনে সনাক্ত করে ১ হাজার বানভাসিকে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ

fec-image

টানা ৮ দিনের ভারী বর্ষণে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ড্রোন ব্যবহার করে দুর্গত এলাকা চিহ্নিত করে পানি মাড়িয়ে ১ হাজারের বেশি দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে ১১ বিজিবি।

সোমবার (১৩ জুলাই) ১১ বিজিবির দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, কক্সবাজার জেলার পেকুয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে নৌকা, গাড়ি এবং কোমরসমান পানি মাড়িয়ে ১ হাজার ১০ জন দুর্গত মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এ দুই উপজেলায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে নিরলসভাবে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)।

তারা আরও জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারের মাঝে নিয়মিত ত্রাণ সহায়তা দিয়ে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৩ জুলাই) কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার নবগঠিত পেকুয়া সদর ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম—বলিরপাড়া, আবাসন প্রকল্প ও মোরারপাড়ায় শুকনা ও রান্না করা খাবার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনটি গ্রামে ৫০০ জনকে রান্না করা খাবার এবং ৫১০টি পরিবারের মাঝে ৫১০ প্যাকেট শুকনা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটে চাল, আলু, ডাল, সয়াবিন তেল, চিড়া, পেঁয়াজ, গুড়, লবণ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য রয়েছে। এছাড়া ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্যা-পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) দুর্গত মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে উদ্ধার, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে বিজিবির এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন