বাংলাদেশ দখল করতে চাওয়া ভারতের ‘খান স্যার’ এর কোচিং সেন্টারে হামলা


বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম দখল করার বিতর্কিত মন্তব্য করা ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনা জেলার শিক্ষক ও ইউটিউবার ফয়সাল খান ওরফে ‘খান স্যার’-এর কোচিং সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে পাটনার কদমকুয়ান থানার আওতাধীন ‘খান গ্লোবাল কোচিং ইনস্টিটিউট’-এ এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে আরেকটি প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি এই হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।
ঘটনার পর খান স্যার সাংবাদিকদের বলেন, “কাছের একটি কোচিং সেন্টারের কিছু অসামাজিক ব্যক্তি আমাদের প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। তারা আমাদের নিরাপত্তারক্ষীকে গুরুতরভাবে মারধর করেছে এবং গুলিও চালিয়েছে। মূলত কম খরচে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল দেওয়াই আমাদের ওপর তাদের এই ক্ষোভের কারণ।”
এদিকে এই হামলার ঘটনার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে খান স্যারের অতীত বক্তব্য যেখানে তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন।
২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম নিয়ে খান স্যারকে বলতে শোনা যায়, “আমরা যদি বাংলাদেশের রংপুর নামের জেলাটির দিকে তাকাই—যদি এই রংপুর দখল করে নেওয়া হয়, তবে পুরো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যদি আমরা এই এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করি, তবে পথটি চওড়া এবং সমান হয়ে যাবে। আমাদের যাতায়াতে আর কোনো সমস্যা থাকবে না; আমাদের যে সরু ঘাড় (চিকেনস নেক) ছিল, তা চওড়া হয়ে যাবে।”
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম নিয়ে একই ভিডিওতে তিনি আরও দাবি করেন, “আমাদের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে মাত্র ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পরেই সমুদ্র শুরু হয়ে যায়। আমরা যদি এই সামান্য অংশটুকু দখল করে নিচে নেমে যাই, তবে ত্রিপুরা সরাসরি সমুদ্র পেয়ে যাবে। তাহলে আমরা কেন মেঘালয়কে ‘গ্রেটার মেঘালয়’ এবং ত্রিপুরাকে ‘গ্রেটার ত্রিপুরা’ বানিয়ে দিচ্ছি না? খেলা খতম। “ইন্ডিয়ান আর্মির এই ভূখণ্ডের কোথায় কী আছে সে বিষয়ে ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং ধারণা রয়েছে। তারা সহজেই এলাকাটি ঘিরে ফেলতে পারবে। এর ফলে বাংলাদেশের ‘চট্টগ্রাম’ বিভাগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। চট্টগ্রাম বিভাগ যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, তখন এই এলাকায় বাংলাদেশের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও খতম হয়ে যাবে।”
উৎসঃ দ্য ডিসেন্ট ( ৩ জুন ২০২৬)

















