বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে বাড়ছে বন্যা

fec-image

টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই এলাকার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এবার দেশের উত্তর ও উত্তর-পূবাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। সেই সাথে দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ নদীর পানি বাড়ছে।

ইতোমধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য বেড়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, আগামী দু’দিনে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আরো বেড়ে কোথাও কোথাও বিপদসীমা ছাড়াতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। আবার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাড়লেও এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। আগামী পাঁচ দিনে উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদ-নদীর পানিও বাড়তে পারে। তবে সেগুলো বিপদসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা কম।

চলতি মাসের শুরুতে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলে বন্যা হয়েছিল। এবারও উজানে বৃষ্টির কারণে একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা। ভারতের উজানে বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি রংপুর ও কুড়িগ্রামে আরো বাড়বে। ইতোমধ্যে জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে এখনও নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদী ছাতক এবং কুশিয়ারা নদী মৌলভীবাজারের শেরপুর পয়েন্টে সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে।

আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। আত্রাই, করতোয়া, ছোট যমুনা ও যমুনেশ্বরী নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে নওগাঁর কয়েকটি পয়েন্টে আত্রাই ও ছোট যমুনা এখনও সতর্কসীমায় রয়েছে। জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। ঢাকা ও আশপাশের নদীগুলোর মধ্যে ধলেশ্বরীর পানি কিছুটা বেড়েছে।

তবে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও টঙ্গী খালের পানি স্থিতিশীল রয়েছে। এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা চার দিন ধরে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অস্বাভাবিক জোয়ারে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে বিভিন্ন লঞ্চ ও ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে ও পন্টুন। এতে যাত্রীদের ঝুঁঁকি নিয়ে নৌযানে ওঠানামা করতে হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কীর্তনখোলা, তেঁতুলিয়া, মেঘনা, বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীর একাধিক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন