সঞ্চয় ফেরত পাচ্ছেন থানচির ভিজিডি উপকারভোগীরা

fec-image

সঞ্চয় ফেরত পাচ্ছেন বান্দরবানের থানচি উপজেলার ভিজিডি উপকারভোগীরা। থানচি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ভিজিডি উপকারভোগীদের গত ২ বছরে সঞ্চয়ের জমা রয়েছে প্রায় ৭৬ লাখ টাকারও বেশী। আর সেসব টাকা ফেরত দেয়ার আগেই গত সেপ্টেম্বরে স্ট্রোক করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কম্পিউটার অপরেটর এমরান হোসেনের মৃত্যু হয়। এতে ভিজিডি উপকারভোগী ১ হাজার ৬৭৮ জনের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পেতে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা । পরবর্তীতে তার স্ত্রী রুমা টাকা পরিশোধ করার আশ্বাস দিলে অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করেছে।

জানা যায়, থানচিতে বলিপাড়া, সদর রেমাক্রী ও তিন্দুসহ ৪টি ইউনিয়নের ভিজিডি আওতায় দরিদ্র ভোগী পরিবার রয়েছে ১ হাজার ৬৭৮ জন। প্রতিমাসে বিনামূল্যে ৩০ কেজি চাউল দেয়ার পর ২২০ টাকা করে দুই বছরের জন্য সঞ্চয় জমা রাখা হয়। ৪টি ইউনিয়নের বলিপাড়া জিয়া অং মারমা, সদরে অংপ্রু ম্রো, তিন্দুতে ভাগ্যচন্দ্র ও রেমাক্রীতে মুইশৈথুই মারমাসহ এই জনপ্রতিনিধিরা সেসব টাকা সংগ্রহ করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সহকারী কম্পিউটার এমরান হোসেনের কাছে জমা দেন। কিন্তু সেসব টাকা উপকারভোগীদের মাঝে দেয়ার আগে তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। এতে ফেরত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে সঞ্চয়কারীদের অর্থ।

নিহত এমরানে স্ত্রী রুমা আক্তার বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ করে আমার স্বামী স্ট্রোক করে মারা গেছেন । কিন্তু মারা যাওয়ার আগে কোনো কিছু বলে যেতে পারেননি। তবুও আমরা মিটিং করে তিনভাগের একভাগ টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়েছি। আশা করছি টাকাগুলো দ্রুত পরিশোধ করতে পারব।’

উপকার ভোগীরা বলছেন, নিয়মিতভাবে প্রতিমাসে সঞ্চয়ে টাকা জমা নেওয়া হলেও প্রয়োজনের সময় সেই টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। কখনো প্রশাসনিক জটিলতা, কখনো কাগজপত্রের অজুহাতে ফেরত প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। যা অনেকের মতে, পরিকল্পিতভাবে টাকা আটকে রাখার কৌশল। তাদের অভিযোগ, জনগণের অধিকারকে পাশ কাটিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধিরাই বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে অনৈতিক বাণিজ্য শুরু করেছেন।

তাদের আরো অভিযোগ, ২০২৩-২৪ চক্রে প্রতি মাসে ২২০ টাকা করে দুই বছর সঞ্চয় জমা নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের পেরিয়ে গেলেও উপকারভোগীদের টাকা ফেরত দেয়া হয়নি।

ইউপি জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, মৃত এমরানে কাছে বলিপাড়া, সদর, তিন্দু ও রেমাক্রীসহ ৪টি ইউনিয়নে মোট ৭৬ লাখ জমা রয়েছে। পরবর্তীতে ইউএনওসহ বৈঠক বসে তিনভাগের এক ভাগ সঞ্চয় টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তার স্ত্রী রুমা।

তার মধ্যে আগামী জানুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে বলিপাড়া ইউনিয়নের ২০ লাখের মধ্যে ১৭ লাখ, তিন্দুতে ২৩ লাখের মধ্যে ১১ লাখ ও রেমাক্রী ইউনিয়নের ২৭ লাখের ১৩ লাখ টাকা ফেরত দেয়া আশ্বাস দিয়েছেন।

রেমাক্রী ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা বলেন, যার কাছে আমরা টাকা জমা দিয়েছি ইমরান নামে সে ব্যক্তি স্ট্রোক মারা গেছেন। তার স্ত্রী এসে দায়িত্ব নিয়েছেন স্বামীর পেনশন টাকার থেকে একভাগ অংশ ফেরত দেবেন। আর সেসব টাকা পেলে সঞ্চয়কারীদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে।

একই কথা জানালেন তিন্দু চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে সঞ্চয়ের জমা টাকা ফেরত দেয়া হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে।

থানচি উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে থানচি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার ৬৭৮ পরিবারকে ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। তারমধ্যে বলিপাড়া ইউনিয়নের ৪০০ জন, থানচি সদরে ৪২০, রেমাক্রীতে ৪২৪ ও তিন্দু ইউনিয়নের ৪২৪ জন। তাদের মধ্যে সদর ইউনিয়নের ও বলিপাড়াতে আংশিক ভিজিডি সঞ্চয় টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্মকর্তা আয়েশা বেগম জানিয়েছেন, আমরা ধাপে ধাপে ৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের টাকা দেয়া শুরু করেছি। সদর ইউনিয়নে সঞ্চয় টাকা দেয়া শেষ পর্যায়ে। তিনি বলেন, নিহতর স্ত্রী টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ধীরে ধীরে পরিশোধ করছেন। আমরা তার পাশে দাঁড়াব।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: থানচি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন