সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইউপিডিএফ-এর ছফ দফা দাবি
প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশে নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় বিষ্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এতে দেশে বিগত দশম সংসদ নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতির মতো অবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং তার দায়-দায়িত্ব ক্ষমতাসীন সরকার এড়াতে পারবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রামে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নেই, ইউপিডিএফকে নির্বাচন থেকে দুরে রাখার ষড়যন্ত্র জারি রয়েছে মন্তব্য করে বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইউপিডিএফ, জেএসএস ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ওপর দীর্ঘ দিন ধরে নিষ্ঠুর দমনপীড়ন জারি রয়েছে। সরকারি দল ছাড়া আর কোন রাজনৈতিক দলকে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক কার্যক্রম চালাতে দেয়া হচ্ছে না। এক কথায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই এবং এরূপ পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
জনমনে আস্থা সৃষ্টিকারী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে ইউপিডিএফ সভাপতি সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন দল কিংবা আইন প্রয়োগকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহ ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করতে যাতে অন্যায় হস্তক্ষেপ ও কর্তৃত্ব খাটাতে সক্ষম না হয়, সেজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকদের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনের সুযোগ প্রদানসহ নির্বাচন কমিশনকে কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করারও আহ্বান জানান।
যেনতেন প্রকারে নির্বাচনে জেতার মানসিকতার জন্য শাসকগোষ্ঠী-ভুক্ত দল প্রধানত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, এর ফলে দেশে গণতন্ত্র-সুশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তি দুর্বল হয়েছে এবং অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলো বার বার মাথাচারা দিয়ে উঠে দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
প্রসিত খীসা পার্বত্য চট্টগ্রামে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টির জন্য ছফ দফা দাবি জানান। এগুলো হলো:
১.অবিলম্বে ইউপিডিএফ ও জেএসএস-এর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধরপাকড়, নির্যাতন বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা এবং আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া।
২.নব্য মুখোশ বাহিনী নামক সন্ত্রাসী সংগঠনকে ভেঙে দেয়া ও এর সদস্যদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা।
৩. অপারেশন ও তল্লাশীর নামে সাধারণ জনগণকে হয়রানি বন্ধ করা।
৪.ইউপিডিএফ-সহ সব দলকে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেয়া তথা সুষ্ঠু, স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৫.ভোটকেন্দ্র পুনর্গঠন, দূরবর্তী অঞ্চলের ভোটারদের সুবিধার্থে ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি নিষেধ শিথিল করা।
৬.পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশী পর্যবেক্ষকদের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন নিশ্চিত করা।
















