‘৮০ ভাগ মুসলমানের দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না’


বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের নির্বাচনী জনসভায় মো. আফজাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বলেন, ‘৮০ ভাগ মুসলমানের দেশে কোনো বিধর্মী সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না।’
আফজাল হোসেন তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘আপনারা কি আল-কোরআন চান, না বিদআত চান? আল-কোরআন যদি চান, অবশ্যই জামায়াতে ইসলামীকে চাইতে হবে। তারা সংসদীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করবে। সংসদে উচ্চস্বরে বলবে—এই দেশ মুসলমানের দেশ। যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষ মুসলমান, সেখানে কোনোদিন বিধর্মী বা অশোভনীয় সংসদ প্রতিনিধি থাকতে পারে না, এমনকি সংবিধানও থাকতে পারে না।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘আজ চুরি করলে যদি হাত কেটে দেওয়া হয়, তাহলে কি এই এলাকায় আর চুরি হবে? আমরা সেই শাসন চাই।’ বক্তব্যের পরপরই এই মন্তব্যটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বরগুনা-২ আসনের বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সায়মন রহমান (মুন্না) জানান, জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত নেতা মো. আফজাল হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা নির্বাচন আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি অভিযোগ করেন, বক্তব্যের সময় জামায়াতের প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি।
এ ঘটনা নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান সায়মন রহমান।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদ এই বিষয়ে বলেন, ‘তিনি (আফজাল হোসেন) আমাদের সঙ্গে সদ্য পরিচিত। একজন অবসরপ্রাপ্ত মুরুব্বি হিসেবে আবেগের তাড়নায় এমন বক্তব্য দিয়েছেন। নির্বাচনের সময় ফর্ম পূরণ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামায়াতে যোগদান হয়। আমাদের নেতাদের মুখ থেকে এমন বক্তব্য কখনও আসেনি।’
বরগুনার বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. পলাশ আহমেদ জানান, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

















