পাহাড়ে বিলুপ্তির পথে মাচাং ঘর

fec-image

মূল ঘরের লাগোয়া করে খোলা ও ছাদবিহীন অংশকে বলা হয় মাচাং ঘর। পাহাড়ের ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীই এ ধরনের ঘর তৈরি করে থাকে। ফলে বংশ পরম্পরায় এটি হয়ে উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে তাদের ঐতিহ্যবাহী ঘর। বিশেষ করে গ্রামে বসবাসকারী জুমচাষিরা সেখানে কাপড় এবং ধান শুকায়। আর রাত হলে সেখানে বসে রূপকথার কাহিনি ও খোশ গল্পে মেতে ওঠে তারা।

বন জঙ্গলের হিংস্র বণ্যপ্রাণী থেকে বাঁচার জন্য একসময় পাহাড়ি মানুষদের বেছে নিতে হয়েছিল নানা কৌশল। বসতবাড়ি নির্মাণেও আত্মরক্ষার তাগিদে মাটি থেকে বেশ উঁচু করে বানাতে হতো ঘর। নিচে থাকত গাছ-বাঁশের অনেক খুঁটি। তিন পার্বত্য জেলার এলাকায় পাহাড়িদের কাছে এমন আদলে ঘরের নাম মাচাং ঘর।

স্থানীয়রা বলছেন, সেই মাচাং ঘর এখন বিলুপ্তির পথে। একদিকে বন উজাড়ের কারণে আগের মতো গাছ-বাঁশ পাওয়া যায় না, অন্যদিকে কিছু সচ্ছল ব্যক্তিও মাচাং ঘরের বদলে পাকা ঘরবাড়ি তৈরিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে অনেকের আশঙ্কা, একসময় দুর্গম এলাকা ছাড়া আর দেখতে পাওয়া যাবে না এই মাচাং ঘর।

বান্দরবান জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে চিমি ডলু পাড়া। দুই শতাধিক মারমা পরিবার রয়েছে এ পাড়ায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় অসংখ্য মাচাং ঘর। মাচাংয়ে কেউ কাপড় শুকায়। কেউ জড়ো করে রাখে খেত থেকে নিয়ে আসা নানা রকমের সবজি।

চিমি ডলু পাড়ার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব হ্লামেচিং মারমা মাচাং ঘরে বসে শীতে রোদ পোহাচ্ছিলেন। কথা হয় তার সঙ্গে।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, ‘বয়স হওয়ার সাথে সাথে মাচাং ঘরও বিলুপ্ত হচ্ছে। চোখের সামনে এখন পুরনো ঘর ভেঙে তৈরি করা হচ্ছে ইট কংক্রিটের পাকার বাড়ি। নতুন প্রজন্মরা একসময় এরকম মাচাং ঘর দেখার সুযোগ পাবে না। ছোট থাকতে মাচাংয়ে বসে আমরাও রাজা-রানি ও রূপকথার গল্প শুনেছি। সারাদিন কাজ শেষে সেখানে পাটি বিছিয়ে পরিবারের সবাই কত গল্প করত। এমনই হতো গল্প শুনে শুনে ঘুমিয়ে পড়তাম আমরা।’

উৎস : দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড অনলাইন

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন