দাফন হয়েছে আছিয়ার

কাঁদছে মাগুরা কাঁদছে বাংলাদেশ

fec-image

১৩ মার্চ সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে আছিয়ার মরদেহ মাগুরার স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর আগেই সেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হয়। আছিয়ার কফিন হেলিকপ্টার থেকে নামানোর পর কফিন নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। মাগুরার নোমানী ময়দানে জানাজা শেষে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় দাফনের জন্য।
মাগুরার নিভৃত গ্রামের ছোট্ট আছিয়া আজ পুরো বাংলাদেশের হৃদয়ে ব্যথা জাগিয়ে তুলেছে। এমন বিদায় যেন আর আর না হয়, কাউকে এমন বিদায় না দিতে হয়; সেই প্রত্যয়ও শোনা গেছে রাজপথে, সরকারে ও জনমনের ভেতরে-বাহিরে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে হার মেনেছে ছোট্ট আছিয়া।
সন্ধ্যার দিকে মাগুরায় পৌঁছায় শিশু আছিয়ার মরদেহ। ইফতারের আগে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে তার লাশ মাগুরায় নেওয়া হয়। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় মাগুরার নোমানী ময়দানে শিশুটির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার জানাজায় ঢল নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নেওয়া শোকাহত মানুষের।
জানাজার পর আছিয়ার লাশের খাটিয়া ঘাড়ে করে নিয়ে যান জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। সাথে ছিলেন নেতাকর্মীরা।
এর আগে শিশুটির জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বিকালে মাগুরা পৌঁছান। র্যাব-পুলিশের একটি হেলিকপ্টারযোগে তারা বিকাল ৫টার দিকে মাগুরা স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) মাগুরা শহরে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। পরদিন তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন দুপুরেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রাতেই পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন