সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে নতুন সরকারের কঠোর উদ্যোগ জরুরি


ঈদ মানে উৎসব। বাঙালি মুসলিম এই উৎসব পালনে নারী ও নাড়ির টান যেভাবে অনুভব করে বিশ্বের আর কোন দেশ সেভাবে অনুভব করে কিনা গবেষণার ব্যাপার। নারী হচ্ছে মাতা স্ত্রী, কন্যা, সন্তান, ভগ্নি, ও নাড়ি হচ্ছে যেখানে তার জন্মের নাড়ি পোঁতা রয়েছে অর্থাৎ শৈশবের বেড়ে ওঠা এলাকা। বাঙালি মুসলিম নিজ এলাকায় নিজ পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ উদযাপন ও ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য অত্যন্ত উদ্গ্রীব থাকে। সে কারণে ট্রাকে- বাসে ঝুলে, ট্রেনের ছাদে উঠে, লঞ্চের গুলুইতে বসে হলেও ঈদে এলাকায় ও পরিবারের কাছে তার যাওয়া চাইই চাই। এর জন্য শত কষ্ট করতেও তাদের দ্বিধা নেই। বরং হাসিমুখে বলে এই কষ্টই নাকি ঈদের আনন্দের অর্ধেক।
কিন্তু এই ঝুঁকিপূর্ণ ঈদ যাত্রায় যাত্রা পথে দুর্ঘটনার কারণে প্রতিবছর অনেক পরিবারে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। এ দুর্ঘটনাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দৈবিক নয়। সড়কপথে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, যানবাহন ও চালকদের অদক্ষতার কারণে ঘটে থাকে। এসব নিয়ে ঈদের আগে-পরে গণমাধ্যমে লেখালেখি হয়। সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ তদন্ত কমিটি করেন, নানা প্রতিশ্রুতি দেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। কিন্তু আদতে এসবের কোন কিছুই বাস্তবায়িত হয় না। প্রতিবছরই ঈদ যাত্রায় কয়েক শত মানুষের প্রাণ এসব দুর্ঘটনায় হারিয়ে যায় এবং সশ্রাধিক মানুষ আহত হয়ে আংশিক বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের জীবন বরণ করে নিতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, ঈদুল ফিতরের ঈদ যাত্রায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ২০২২ সালে ৪৪৩ জন, ২০২৩ সালে ৩২৮ জন, ২০২৪ সালে ৪৩৭ জন এবং ২০২৫ সালে ৩২২ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির প্রধান সাইদুর রহমান আমাকে
জানিয়েছেন, চলতি বছর আজ পর্যন্ত (২৬ মার্চ) ঈদুল ফিতরের যাত্রায় ৩৪২ টি দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন। এখনো ঈদের অধিকাংশ মানুষ কর্মস্থলে ফেরেনি। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত ঈদ উদযাপনে ছুটিতে যাওয়া মানুষ কর্মস্থলে ফিরবে। ফলে দুর্ভাগ্যজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও এই পরিসংখ্যান শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে বলা মুশকিল।
এবারের ঈদুল ফিতরের ঈদ যাত্রায় আলোচিত দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম, বগুড়ার আদমদীঘিতে ট্রেন উল্টে যাওয়া। গত ১৮ ই মার্চ ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলফামারী অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হয়েছে। উপজেলার শান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৬৬ জন। ট্রেনের ছাদে থাকা লোকজন রাস্তায় ছিটকে পড়ে এবং ট্রেনের ভেতরে থাকা লোকজন এভাবে আহত হয়েছে। এছাড়াও দুই পাশে বিপুল পরিমাণ ট্রেন আটকে
পড়ে ঈদ যাত্রায় থাকা মানুষের ব্যাপক দুর্ভোগ হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে গণমাধ্যমে এসেছে, ট্রেনের চালক সিগন্যাল অমান্য করার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার একদিন পর অর্থাৎ ১৯ মার্চ রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম মো. সোহেল (২২)। তাঁর বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে। পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে ঢাকা–ইলিশা (ভোলা) রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ নামে একটি লঞ্চ ট্রলার থেকে যাত্রী তুলছিল। এ সময় লঞ্চটিকে ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ নামে একটি লঞ্চ ধাক্কা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এমভি জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চের পেছনের একটি কোণের আঘাতে ‘আসা যাওয়া–৫’ লঞ্চের দুজন যাত্রী পিষ্ট হন। এর মধ্যে একজনকে পানিতে পড়ে যেতে দেখা গেছে। অন্যজনকে ‘আসা যাওয়া–৫’–এর বাইরের অংশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে গত ২২ মার্চ রাত ৩টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় যশোর থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনে ধাক্কার ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। এই ঘটনায় বাসের যাত্রী নিহত সোহেল রানার খালা বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে আসামি করা হয়।
বাদীর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, কর্তব্যরত গেটম্যান রেলক্রসিংয়ের গেট বন্ধ না করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় দুই গেটম্যান মো. হেলাল ও মেহেদী হাসান কেউই ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে চলতি বছরের ঈদ যাত্রায় এ পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া নৌবন্দরে। গতকাল(২৫ মার্চ) রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহন নদীতে পড়ে গিয়ে যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন মিডিয়াকে বলেছেন, তাদের গাড়িতে ৪০ জন যাত্রী ছিল। এটি একটি ভয়ংকর মিথ্যাচার ও জালিয়াতি। মূলত সরকারি আইন ও ক্ষতিপূরণের হাত থেকে বাঁচতে তারা এই মিথ্যাচার করছে। আমি বহুবার সৌহার্দ্য পরিবহনে ভ্রমণ করেছি। মূলত সরকারি আইনে আন্তঃনগর সড়ক পরিবহনে চল্লিশ সিটের অনুমোদন থাকায় তারা আইন লঙ্ঘনের হাত থেকে, ও ক্ষতিপূরণের হাত থেকে রক্ষা পেতে এই প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে।
সবার তো পরিবহন ঢাকার গাবতলী থেকে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ রাজবাড়ী সদর বালিয়াকান্দি কালুখালী পাংশা কুষ্টিয়া জেলার মাছপাড়া ও কুমারখালী উপজেলার যাত্রী বহন করে থাকে। এছাড়াও কুষ্টিয়া মাগুরার শ্রীপুর ও ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলার যাত্রীরাও এই পরিবহনে ভ্রমণ করে থাকে।
এদের গাড়ির কন্ডিশন অত্যন্ত নিম্নমানের। সিটগুলো এত চাপাচাপি থাকে যে, পেছনের দিকে হেলান দিতে গেলে পেছনের যাত্রীর পায়ে ঠেকে যায়। পেছনের যাত্রী চিল্লায় ওঠেন, ভাই সিট সোজা করেন। অনেক সিট ভাঙ্গাচোড়া সেগুলোর লিভার কাজ করে না। ফেলে পেছনের দিকে কাত করাও যায় না। সিট কভার অত্যন্ত নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত। শুধু সৌহার্দ্য পরিবহন নয়, এই রুটের অধিকাংশ পরিবহনের অবস্থা একই রকম। তবে ভাড়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি। ঈদের সময় এই রুটের গাড়িগুলো সব কুমারখালীর টিকেট বিক্রি করে। গোয়ালন্দ রাজবাড়ী কালুখালী পাংশা যেখানেই যান কুমারখালীর ভাড়া দিতে হবে। এবারের ঈদে এই রুটে গাবতলী থেকে ৭০০-৮০০ এবং সায়দাবাদ থেকে ৮০০ টাকা করে টিকেট নিয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকা থাকে।
এ সকল ভ্রমণকারী জানেন, এই রুটের বাসগুলোতে নির্ধারিত সিটের বাইরে আরো কিছু রিজার্ভ সিট তৈরি করা হয়। এমনকি এদের টিকেটে যে সিট প্লান থাকে গাড়ির ভিতরে তার থেকে বেশি সিট থাকে। এগুলোকেই তারা এক্সট্রা সিট বা রিজার্ভ সিট বলে থাকে। এছাড়াও সৌহার্দ্য পরিবহন বাম্পারে ৪-৫ জন যাত্রী বহন করে থাকে। জাতির চাপ থাকলে কখনো কখনো দু-একজন দাঁড় করিও নেয়। যেহেতু এই পরিবহনের যাত্রীরা সবাই ঈদ-ফেরত ছিল এবং অনেকেই পরিবারসহ এসেছে সে কারণে অনেক পরিবারের সাথেই ছোট ছোট বাচ্চা ছিল যারা পরিবারের সদস্যদের কোলে বসে আসছিল। ফলে এই গাড়িতে যাত্রীসংখ্যা ৪০ এর থেকে অনেক বেশি ছিল। কিন্তু বাস কর্তৃপক্ষ সেটি স্বীকার করছে না।
সৌহার্দ্য পরিবহন রাজবাড়ীর গাড়ি এবং দৌলতদিয়া নৌবন্দর রাজবাড়ী জেলার মধ্যে হওয়ায় এরা ঘাটে বিশেষ প্রিভিলেজ নিয়ে অনেকটা বাড়াবাড়ি করে ফেরিতে উঠে থাকে। অভিজ্ঞতাও আমার বহুবার হয়েছে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নৌ-দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা এবং সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা থাকায় উভয় কর্তৃপক্ষ এটিকে নৌ দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা। কেননা যাত্রীরা সবাই বাস যাত্রী ছিল এবং তারা সড়ক পরিবহনে এই যাত্রা করেছিল। কাজেই নদীর ঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটায় একে নৌ দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়ে যাত্রীদের ক্ষতিপূরণে ফাঁকি দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে একাধিক কমিটি করা হলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে দুর্ঘটনার ভিন্ন ভিন্ন কারণ উঠে এসেছে। কারো মতে দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে চালক ছিল না। ফলে পল্টুনে একটি ফেরি আঘাত করলে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। আবার কারো মতে, বাসটির চালক তড়িঘড়ি করে একটি ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। প্রকৃত কারণ হয়তো তদন্তে জানা যাবে। তবে এটি কোন দৈবিক ঘটনা নয়। এর পেছনে অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনার কারণ সুস্পষ্ট।
যাত্রাপথে এসব দুর্ঘটনার জন্য নানা কারণ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চালকের অদক্ষতা, নিয়ম মেনে গাড়ি না চালানো, সিগন্যাল অমান্য করা, চালকদের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম না দেয়া, অতিরিক্ত গতি, প্রধান সড়কে রিক্সা, ভ্যান, ব্যাটারি চালিত রিক্সা ও অটো রিক্সা চলাচল, মোটরসাইকেল চালকদের অনিয়ন্ত্রিত ড্রাইভিং, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, সড়কের ত্রুটি, গাড়ি চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা প্রভৃতি কারণ রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ কঠোর হলে এই দুর্ঘটনার সংখ্যা হ্রাস করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় ও আইন শৃঙ্খলা প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অনেক সময় যাত্রীদের সুরক্ষার চেয়ে মালিক ও চালকদের স্বার্থে কথা বলে থাকেন। এবারের ঈদ যাত্রায় দেশবাসী সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর বিভিন্ন বেফাঁস ও দায়িত্বহীন বক্তব্য শুনেছে। প্রত্যেক
সরকারেরই আবুল মাল আব্দুল মুহিত, ম খা আলমগীরের মত বেফাঁস কথায় পারদর্শী কিছু মন্ত্রী-এমপি থাকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একমাস বয়সি সরকারে উক্ত ভূমিকায় জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে দেখা যাচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত স্বল্প ও পরিমিত ভাষী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তার দায়িত্বশীল কথাবার্তা সমালোচক ও প্রতিপক্ষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এহেন প্রধানমন্ত্রীর কেবিনেটে কেউ আবুল মাল আব্দুল মুহিত বা মখা আলমগীর হয়ে উঠুক তা দেশবাসীর প্রত্যাশিত নয়। সড়ক, যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম পরিবহন সেক্টর নিয়ে ইতিমধ্যেই যে সমস্ত বেফাঁস কথাবার্তা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। গণমাধ্যমে কার্টুন হয়েছে। তার এই বক্তব্যগুলো সড়ক পরিবহনের সাথে জড়িত বিভিন্ন পক্ষকে বেপরোয়া হতে কিংবা দায়িত্বে অবহেলা বা শৈথিল্য প্রদর্শনে ভূমিকা রেখেছে কিনা সেটা প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই বিবেচনা করে দেখবেন।
যানবাহনের মালিক ও চালক একটি বিরাট সিন্ডিকেট। এদের কাছে সকল সরকারের অসহায়ত্ব প্রমাণিত হয়েছে বারবার। এদের কাছে আইনের শাসন অচল হতে দেখা গিয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন সময় বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় নতুন আইন তৈরি করতেও এদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। কেননা এর সাথে সকল সরকার, সকল রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, সরকারি আমলা ও ব্যবসায়ীরা জড়িত। এদের কাছে রাষ্ট্রের অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে বারবার। তবুও একটা রাষ্ট্র এভাবে চলতে পারে না। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশবাসী প্রত্যাশা করে সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল থামাতেও তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক।

















