আইফোন উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ

fec-image

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় আইফোন উপহার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক উপজাতি নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। এই ঘটনায় আদিত্য দাস নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ।

শনিবার ( ১৬ মে) গভীর রাতে তাকে গ্রেফতার করে ত্রিপুরা পুলিশ।

ত্রিপুরা পুলিশ জানায়, ধলাই জেলার এক উপজাতি যুবতীর সঙ্গে কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় অভিযুক্ত আদিত্য দাসের। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যুবতীকে দেখা করার প্রস্তাব দেয় আদিত্য। পাশাপাশি তাকে একটি দামি আইফোন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয় সে।

নির্যাতিতা যুবতীর অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সকালে ঔষধ কেনার উদ্দেশ্যে ট্রেনে করে আগরতলায় আসে সে। বাধারঘাট রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত আদিত্য দাস একটি দামি মোটরবাইক নিয়ে সেখানে হাজির হয়। প্রথমে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও পরে স্টেশনের পাশের একটি তিনতলা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় যুবতীকে। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। বাধা দিলে মারধরও করা হয় বলে দাবি যুবতীর।

অভিযোগ, হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্ত যুবতীর মোবাইল ফোন নিজের কাছে রেখে দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে কোনোভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে পশ্চিম আগরতলা মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতা।

অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে পুলিশ। পশ্চিম আগরতলা মহিলা থানার ওসি ইন্সপেক্টর শিউলি দাসের নেতৃত্বে শনিবার রাতে আগরতলার লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ি সংলগ্ন অভিযুক্তের মোবাইল দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই আদিত্য দাসকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, থানায় নিয়ে আসার পর অভিযুক্ত নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তির কথা বলে পুলিশকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। পরে শনিবার গভীর রাতেই তাকে আমতলী থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং রাত প্রায় দু’টো নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আমতলী থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৫(১) ও ৩৫১(২) ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে আটক আদিত্য দাসকে আদালতে পাঠানো হয়েছে জানিয়েছেন আমতলী থানার ওসি ইন্সপেক্টর পরিতোষ দাস।

উৎস : জাগরণ ত্রিপুরা (১৭ মে ২০২৬ )

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ত্রিপুরা, ধর্ষণ, ভারত
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন