খাগড়াছড়িতে বাড়ির আঙিনায় ৬০ প্রজাতির আঙ্গুর চাষ করে তাক লাগিয়েছেন সালাহ উদ্দীন


পাহাড়ে আঙ্গুর চাষে নতুন করে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। সফলতা মিলেছে চাষীদের বাগানে। বিশেষ করে খাগড়াছড়িতে আঙ্গুর চাষ করে অভাবনীয় সফলতা পাওয়া গেছে। এতে জেলার কৃষিখাতে ফলন উৎপাদনে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আঙ্গুর ফল। নিজ উদ্যোগে বাড়ির আঙিনায় ৬০ প্রজাতির আঙ্গুর চাষ করে তাক লাগিয়েছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার চাষী সালাহ উদ্দীন। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা গেলে অর্থনৈতিক খাতে নতুন দরজা খুলতে পারে দেশে বিদেশি জাতের আঙ্গুর ফল চাষে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ে এর বিস্তৃতি ঘটাতে দরকার প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, সদিচ্ছা সহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা—বলছেন কৃষি কর্মকর্তা।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফলের চাষাবাদ করে আসছেন মো. সালাহ উদ্দীন। এর মধ্যে বিদেশি কয়েক জাতের আঙ্গুর ফলের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তিনি। সালাহ উদ্দীনের বাগানে বাইকোনুর, বাইকিং, গ্লোরি, ডিক্সন, দাসোনিয়া ও মেডরো ব্ল্যাক, থাই আঙ্গুর, ভেনুস, রেড আরহাম, সুপার নোভা, গ্রিন লং, ব্ল্যাক ম্যাজিকসহ ৬০ প্রজাতির আঙ্গুর গাছ রয়েছে। ফলনও হয়েছে ভালো। মিষ্টতাও রয়েছে।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ভূইয়াছড়ি এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের আঙিনায় ১৫ শতক জায়গায় আঙ্গুর ফলের চাষাবাদ করেছেন সালাহ উদ্দীন। প্রথমে ২টি আঙ্গুর ফলের চারা দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। এখন পুরো একটি বাগান তার। ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে শুরু করেন আঙ্গুরের চাষাবাদ। বর্তমানে সালাহ উদ্দীনের বাগানে প্রায় ১৭০টির মতো আঙ্গুরের গাছ রয়েছে। প্রায় সব গাছেই ফলন এসেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সালাহ উদ্দীনের বাগানে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কয়েক জাতের আঙ্গুর ফল। এসব আঙ্গুরের পরিচর্যা করছেন তিনি। নিজ প্রচেষ্টায় আঙ্গুরের ফলন দেখে খুশি তিনি।
চাষী সালাহ উদ্দীন জানান, সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবের ভিডিও দেখে নিজ বাড়ির আঙিনায় আঙ্গুর ফলের চাষাবাদ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে ৬০ প্রজাতির আঙ্গুর গাছ রয়েছে। প্রথমে ইউক্রেন ও রাশিয়ার জাত দিয়ে আঙ্গুর চাষ শুরু করেন। চাষাবাদের শুরুর দিকে তেমন একটা ভালো ফলন পাননি। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে ফলন ভালো হওয়ায় চাষের পরিমাণ বাড়ান তিনি।
আঙ্গুর চাষ করতে গিয়ে আবহাওয়া প্রতিকূলতার কথাও জানিয়েছেন চাষী সালাহ উদ্দীন। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে এর বিস্তার ঘটাতে চান এই চাষী। পাহাড়ে আঙ্গুর চাষের সম্ভাবনা আছে বলেছেন তিনি।
সালাহ উদ্দীনের আঙ্গুর বাগানের ফলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার বাগান দেখতে যান। বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাদের নজরে আসলে সালাহ উদ্দীনের আঙ্গুর বাগান পরিদর্শন করেন এবং ফলনের যাচাই-বাছাই করেন।
পাহাড়ের আবহাওয়ায় বিদেশি জাতের আঙ্গুর ফলের চাষাবাদে সফলতা পাওয়ায় চাষীর অদম্য প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন উপজেলা ও জেলা কৃষি কর্মকর্তারা।
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, সফলভাবে ফলন পাওয়ায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আঙ্গুর ফলের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে বিক্রি হওয়া আঙ্গুরের সঙ্গে বাগানের আঙ্গুরের মিষ্টতাও পরিমাপ করা হয়েছে। মিষ্টতা সন্তোষজনক জানিয়ে বলেন, অস্টিন নামের জাতের আঙ্গুরে প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ মিষ্টতা পাওয়া গেছে। চাষাবাদে আরও দক্ষতা ও মনোযোগী হলে আঙ্গুরের আরও ফলন বাড়ানোসহ মিষ্টতা ধরে রাখতে পারবেন চাষী সালাহ উদ্দীন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ওঙ্কার বিশ্বাস বলেন, প্রথমবারের মতো খাগড়াছড়ি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষাবাদ করেছেন চাষী সালাহ উদ্দীন। আবহাওয়া প্রতিবন্ধকতা কাটাতে পারলে আরও ভালোভাবে আঙ্গুরের ফলনশীল করা যেতে পারে। আবহাওয়া প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ ও আঙ্গুরের ফলন বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা সহ নিয়মিত পরামর্শের আশ্বাস দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করা গেলে বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষাবাদে পাহাড়ের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে আঙ্গুর ফল চাষাবাদ।
















