ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল

fec-image

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল ও লুকা মদরিচের ক্রোয়েশিয়ার লড়াইয়ে ছিল উত্তেজনার সব উপাদান। জমজমাট এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল।

এই জয়ে শুধু নকআউটের বাধাই পেরোয়নি পর্তুগিজরা, দীর্ঘদিনের এক ব্যক্তিগত অপেক্ষারও অবসান ঘটিয়েছেন রোনালদো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো গোলের দেখা পেয়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন তিনি, আর যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি হিসেবে নামা গঞ্জালো রামোস।

ম্যাচের প্রথমার্ধে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল পর্তুগালের। তবে ক্রোয়েশিয়ার দৃঢ় রক্ষণ ও গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গোলশূন্যভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ক্রোয়েশিয়া। ৪৮ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। তবে ৫৩ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। যোসিপ স্তানিশিচের পাস থেকে ইভান পেরিসিচ নিখুঁত শটে জালে বল জড়িয়ে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন।

তিন মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। ভ্লাশিচের পাস থেকে ইগর মাতানোভিচ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

পিছিয়ে পড়ে দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় পর্তুগাল। ৫৮ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে পেতার সুসিচের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দলকে রক্ষা করেন দিয়োগো কস্তা।

৬১ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর পাস থেকে বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন রোনালদো। কিন্তু সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকা এবং পরে ভিএআর পর্যালোচনায় সেই সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় গোলটি বাতিল হয়।

এরপর একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন এনে আক্রমণে নতুন গতি যোগ করেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। এর ফলও মেলে দ্রুত। ৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে রেনাতো ভেইগাকে ফাউল করলে ভিএআরের সহায়তায় পর্তুগালের পক্ষে পেনাল্টি দেন রেফারি।

৬৮ মিনিটে স্পট-কিক থেকে নিশ্চিত গোল করে ১-১ সমতা ফেরান রোনালদো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল তার প্রথম গোল এবং চলতি আসরে তৃতীয়।

সমতা ফেরার পর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ৭৫ মিনিটে কোভাচিচের শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলেও তার নেওয়া শট অসাধারণ সেভে প্রতিহত করেন দিয়োগো কস্তা।

৮১ মিনিটে রোনালদোকে তুলে নেন মার্তিনেজ। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়েও আক্রমণ অব্যাহত রাখে দুই দল। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের ১০০ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের ভাসানো ক্রস থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে উঠে শক্তিশালী হেডে জয়সূচক গোল করেন বদলি গঞ্জালো রামোস।

শেষদিকে ম্যাচের ১০৩ মিনিটে ক্রোয়েশিয়া বল জালে পাঠিয়ে সমতায় ফেরার আশা জাগালেও ভিএআর পর্যালোচনায় সেটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।

২-১ গোলের এই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে পর্তুগাল। আর হৃদয়ভাঙা পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ক্রোয়েশিয়া।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ক্রোয়েশিয়া, পর্তুগাল, ফিফা বিশ্বকাপ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন