ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব: কক্সবাজার জেলায় ৫২.৫ হেক্টর শস্যক্ষেত্র, ৮৫.৬৪ হেক্টর মৎস্য খাতে ক্ষতি


ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে কক্সবাজার জেলায় ৫২.৫ হেক্টর শস্যক্ষেত্র এবং হ্যাচারি, মৎস্য, চিংড়িঘের, মৎস্য বিচরণ মিলে এখাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৮৫.৬৪ হেক্টর। এছাড়া ১.৫ কি.মি বিদ্যুৎ লাইন, ২১.৫ কি.মি সড়ক, ৫.৩৬৫ কি.মি বাঁধ, ২৩ হেক্টর বনাঞ্চল, ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৫৪টি নলকূপ ও ২০৯৬ মে. টন লবণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, জেলার ৭ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে ৯৩.৪৭৬ বর্গ কি.মি গ্রামাঞ্চল, ২১৮০ টি খানা ও ৩৪৭০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয় একজন শিশু। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়গ্রহণকারীর সংখ্যা ১৮,৭৪৭ জন। পশুপাখি মারা গেছে ৬৭৬টি।

এদিকে, গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ কক্সবাজারে বয়ে না গেলেও প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার, চিংড়িঘের, খেতখামারের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাগরের পানি বেড়েছে স্বাভাবিক চেয়ে প্রায় ৬ ফুট।
বেসরকারী তথ্য মতে, কক্সবাজার জেলায় তিন হাজারের বেশি বসতবাড়ি, স্থাপনা ক্ষতির শিকার। ভেসে গেছে চিংড়িঘেরের মাছ। সদরের ইসলামপুর, চৌফলদন্ডি ও পোকখালীর বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে পানিতে ডুবেছে ঘরবাড়ি। ক্ষতি হয়েছে লবণশিল্পের।

বিসিক কক্সবাজারের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া ও টেকনাফ এই ৫ উপজেলার ১৬ ইউনিয়নে ২০৯৬ মে.টন লবণের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সম্ভাব্য বাজারমূল্য গড়ে ১৬১ টাকা হিসেবে যার অর্থের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় অনুমান ৮৪ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা।
জোয়ারের পানির ধাক্কায় ভেঙে পড়ছে সেন্টমার্টিনের প্রধান জেটিঘাট। শাহপরীর দ্বীপ বাঁধের ব্লক সরে ঝুঁকিতে ৪০ হাজার মানুষ। শাহ্পরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন আশ্রয় কেন্দ্রটি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। জোয়ারের পানি উপড়ে পড়ছে ভবনটিতে। ভাঙন ধরেছে আশ্রয় কেন্দ্রের পল্টুনে ও রাস্তাঘাটে। যে কোন সময় সাগরে তলিয়ে যেতে পারে সরকারি সম্পদটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেড়িবাঁধ ভেঙে কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডি, পোকখালী, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের শতাধিক গ্রামে ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি। কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া, নুনিয়ারছড়া পানিরকুপপাড়া, গোদারপাড়াসহ অন্তত ৮টি এলাকায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ।

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রবল জোয়ারের পানিতে উপড়ে গেছে গাছপালা। ভাঙন ধরেছে জেটির পল্টুনে ও রাস্তাঘাটে। তবে মানুষের জানমাল রক্ষায় সব ধরণের প্রস্তুুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে বেড়িবাঁধের ব্লকে ধস নেমেছে।

















