টেকনাফে ৪ বছরের মার্কিন শিশু উদ্ধার, ৩ অপহরণকারী আটক

fec-image

কক্সবাজারের টেকনাফে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অপহরণের শিকার চার বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক (শিশু) ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫)। একই সাথে অপহরণচেষ্টায় জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন টেকনাফ থানার নতুন পল্লান পাড়ার আব্দুস ছালামের ছেলে শাহাব উদ্দিন (২৮), একই এলাকার মৃত কামাল হোসেনের ছেলে আব্দুর রজব মিয়া (৩৫) এবং মহেশখালী পাড়ার হাফেজ উল্লাহ্র ছেলে কেফায়েত উল্লাহ্ (২৪)। গ্রেফতারকৃত সকলেই কক্সবাজারের টেকনাফ থানার স্থায়ী বাসিন্দা।

র‌্যাব জানায়, গত ২ জুন টেকনাফ থানার শাপলা চত্বর মোড় এলাকায় র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি নিয়মিত টহল দল দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় তারা খবর পান যে, নতুন পল্লান পাড়া এলাকায় একটি শিশুকে অপহরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি চৌকস আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় উত্তেজিত জনতা অপহরণচেষ্টাকারী তিন আসামিকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে র‌্যাব সদস্যরা উত্তেজিত জনতার হাত থেকে আসামিদের উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরবর্তীতে আহত আসামিদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

উপস্থিত স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ২ জুন আনুমানিক দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মোঃ জুবায়েরের বসত বাড়ির সামনের পাকা রাস্তার ওপর তার ভাগিনা একা দাঁড়িয়ে ছিল। মার্কিন নাগরিক চার বছর বয়সী ওই শিশুটিকে একা পেয়ে আসামিরা জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টা চালায়।

র‌্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত শিশু ভিকটিমকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। অপরাধ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের এই কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: টেকনাফ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন