দীঘিনালায় ঈদ পুনর্মিলনীতে একসাথে পাহাড়ের সব সম্প্রদায়

fec-image

“যেথায় থাকুক, যে যেখানে বাঁধন আছে, প্রাণে প্রাণে”—এই চেতনা বুকে ধারণ করে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী, হৃদয়ছোঁয়া ঈদ পুনর্মিলনী উৎসব। বোয়ালখালী সম্প্রীতি ফোরামের আয়োজনে এ উৎসব যেন রূপ নেয় সম্প্রীতি, ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্বের এক জীবন্ত মঞ্চে।

ঈদের আনন্দকে আরও গভীর ও সর্বজনীন করতে প্রতিবছরের মতো এবারও দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বসে এই বর্ণিল আয়োজন। সকাল থেকেই মাঠজুড়ে ভিড় জমাতে থাকেন নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা, রাখাইন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মিলে যেন একসাথে লিখে ফেলেন ঐক্যের নতুন গল্প।

উৎসবস্থলে ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস—কোথাও চলছে হাসি-ঠাট্টায় ভরা খেলাধুলা, কোথাও আবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে গান, নাচ ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া। ছোটদের কোলাহল, তরুণদের প্রাণচাঞ্চল্য আর বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রশান্ত উপস্থিতি মিলিয়ে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।

এ আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম জাহিদ বলেন, “এই উৎসবের মূল লক্ষ্যই হলো, ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে আমরা সবাই যেন একসাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি, সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে পারি।”

দীঘিনালার এই ঈদ পুনর্মিলনী শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি পাহাড়ি জনপদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে ভিন্নতা নয়, মিলনই মুখ্য—এখানেই এই আয়োজনের সার্থকতা।

এ যেন একদিনের উৎসব নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে বয়ে চলা এক অটুট বার্তা—আমরা ভিন্ন, তবুও আমরা এক।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন