বন বিভাগের মামলায় নিরীহ এনজিও কর্মী ও স্কুল ছাত্র আসামী

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজস্থলী:

রাজস্থলী উপজেলাধীন ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের খলিলুর রহমানের পুত্র বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র মোহাম্মদ রাসেল (১৪)কে বন বিভাগের মামলা দিয়ে হয়রানীর স্বীকার হচ্ছে বলে জানা গেছে। মামলা সুত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনীয়া উপজেলার খুরুশিয়া রেঞ্জের সুখবিলাস বিটের বিট কর্মকর্তা, খশরুল আমীন বাদী হয়ে মামলা নং- ১৪-১৫ ধারা-২৬ এর ১ এর ক ৯/১/২০১৪ইং তারিখে  মোঃ জসীম উদ্দিন (৩৫), মোঃ রাসেল (১২), মোঃ আব্দুল (৩৪), ও বাবলু (৩৫), সিলিমং মারমা (৩৩), পিতা-সাবাঅং মারমা, এনজিও কর্মী মংচপ্রু মারমা(৩৫), পিতা-সাবাঅং মারমাকে বন মামলা আইনে সরকারী সংরক্ষিত বনে বেআইনী ভাবে প্রবেশ করার অজুহাত দেখিয়ে চট্টগ্রাম বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে মামলা রুজু করেন। এই মামলা মিথ্যা ও উদ্যেশ্য প্রণোদিত বলে ভুক্তভুগীরা জানান।

এদিকে ৯ম শ্রেণীর ছাত্র কে মামলায় জড়িয়ে তার লেখাপড়া ও ভবিষ্যত অন্ধকারে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমানে রাসেল তার চলাফেরাতো দুরের কথা, ঘর হতে বাহির হতে লজ্জা বোধ করছে। আসলে কি সে একজন কাঠ পাচারকারী? নাকি বিদ্যালয়ের ছাত্র? সে বিষয়ে জানা যায়, বাঙ্গালহালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু আক্যমং মারমা এ প্রতিবেদককে জানান, রাসেল প্রতিনিয়ত অধ্যয়নরত স্কুল ছাত্র্ সে কোন দিন বন জঙ্গলে কাঠ কাটা তো দুরের কথা বনের আশে পাশে পর্যন্ত যাননি।

জানা যায় যে, বনবিভাগ প্রতিদিন রাতের আধারে কাঠ পাচার করতে থাকলে এ নিরহ ব্যক্তিদের নজরে পরে। তারই ধারাবাহিকতায় বন বিভাগের খুরুশিয়া রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ ধরনের মামলা রুজু করেন চট্টগ্রামের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে। অপরদিকে ৪ নং আসামী মোঃ বাবলু তিনি একজন সরকারী লাইসেন্স ধারী এলজিইডি’র ঠিকাদার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৯ ইসিবির রোড কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদারী হিসাবে কাজ পরিচালনা করে আসছে। তার বিরুদ্ধে বন বিভাগের যে মামলা রুজু করা হয়েছে তাও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও মানহানিকর মামলা বলে বাবলু জানান।

এ ব্যাপারে খুরুশিয়া রেঞ্জে সুখ বিলাস বিটের  বিট কর্মকর্তা খসরুল আমীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আইনের কাজ আইনে করবে। আপনার বলার কিছু নেই। উল্লেখ্য যে, খুরুশিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে তিনি এ মামলা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। ফলে, বনবিভাগের এই চরম আচরনে পার্বত্য বাঙ্গালহালিয়া ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারন নিরীহ জনগন আজ ভোগান্তিতে স্বীকার হচ্ছে।

বনবিভাগ প্রত্যেকদিন রাতের আধারে চাঁদের গাড়ি, পিকআপ ও ভ্যান রিক্সার মাধ্যমে প্রত্যেকদিন লক্ষ লক্ষ টাকার কাঠ পাচার করে তারা ধরাকে সরাজ্ঞান মনে করে পার পেয়ে যাচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন