অটো চালকদের দণ্ডের বদলে খাবার দিলো বিজিবি

fec-image

পঞ্চাষোর্ধ বয়সী মোস্তফা কামাল। টমটম চালিয়ে সংসারের ঘানি টানেন। রবিবার (৮ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার বিজিবি ক্যাম্পের সামনের সড়ক হয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক ওই মুহূর্তে গাড়ি আটকালো বিজিবি। ভয় পেয়ে গেলেন বৃদ্ধ চালক মোস্তফা কামাল। ভাবছিলেন কোন জেল-জরিমানা হচ্ছে কিনা! আতঙ্ক ভর করছিল ওই হতদরিদ্রের। কিন্তু ঘটলো বাস্তবতা ও কল্পনার বিপরীত।

লকডাউনে ঘর থেকে বের হওয়ার অপরাধে তাকে জরিমানা গুনতে হয়নি। মানবিক বিবেচনায় বিজিবি সৈন্যরা তুলে দিয়েছেন খাবারের প্যাকেট। উপদেশ দিলেন ঘরে ফিরে যাওয়ার।

ঠিক এভাবে আটকানো ৫০ জন চালকের হাতে খাবারের প্যাকেট দিয়েছে দেশের সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি।

করোনাকালে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে বের হওয়া সিএনজি, টমটম, অটোরিকশা চালকদের সতর্ক করলের ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।

বিজিবি ক্যাম্পের পাশাপাশি কক্সবাজার সাংস্কৃতিককেন্দ্রের সামনে সতর্কতামূলক অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানেও রিকশা চালকদের খাবারের প্যাকেট তুলে দেয়া হয়।

এ সময় ৩৪ বিজিবি কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক ইয়ার হোসাইন, নায়েক সুবেদার তোফাজ্জলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবারও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ৫০ জনকে খাবার বিতরণ করেছে বিজিবি।

এ প্রসঙ্গে সহকারী পরিচালক ইয়ার হোসাইন বলেন, লকডাউনের প্রথম দিন থেকে আমরা সার্বক্ষণিক মাঠে আছি। বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত টিমের সদস্যরা শতভাগ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সাধারণ মানুষকে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্বুদ্ধ করছি। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গত দুই দিনে ১০০ সিএনজি, টমটম, অটোরিকশা চালককে খাবারের প্যাকেট দিয়েছি।

এরই মাধ্যমে চালকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − 5 =

আরও পড়ুন