টইটং ইউপি নির্বাচন ২১ জুন: নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে ৫৫ প্রার্থীর প্রচারণা শুরু

fec-image

কক্সবাজারের পেকুয়ার আসন্ন টইটং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, সদস্য পদে ৪৮ জন প্রার্থী তাদের নির্বাচনী প্রতীক হাতে নিয়ে গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণা শুরু করেছে।

৩১ মে নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষের এক প্রজ্ঞাপনে মহামারি করোনা ভাইরাস বৃদ্ধির কারণে সারাদেশে স্থগিত হওয়া পৌর ও ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ ঘোষণা করে। এরই মধ্যে পেকুয়ার টইটং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখও নির্ধারিত হয়। সেই থেকে শুরু টইটং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীরা বসে থাকেনি। শুরু করেছেন জোর প্রচার প্রচারণা। গণসংযোগ থেকে শুরু করে পাড়ায় পাড়ায় মতবিনিময় সভা।

এমনকি এলাকায় এলাকায় বিভিন্ন নির্বাচনী শ্লোগান নিয়ে মাইকিং করাও শুরু হয়েছে। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। চেয়ারম্যান মেম্বার প্রার্থীদের হরদম প্রচারণা চলছে। এমনকি মোটর শোডাউন থেকে শুরু করে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে শোডাউন করছে প্রার্থীরা। কোন প্রার্থীই মেনে চলছে না স্বাস্থ্য বিধি। প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ বিধি অমান্য করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। নেই নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষের তদারকি। গ্রামে গ্রামে ছেয়ে গেছে নানা প্রতিশ্রুতি সম্বলিত রং বেরং এর পোস্টার ও লিপলেট।

এমনকি চায়ের দোকানে ও আলোচনার ঝড় বয়ে চলছে। এবার কে হচ্ছেন টইটং ইউনিয়নের অভিভাবক। এবার প্রার্থীদের অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা চুলচেড়া বিশ্লেষণ করছে ভোটাররা। আবার অনেকই শংকা প্রকাশ করছেন ভোট কি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহন যোগ হবে। না রাতের আঁধারে ব্যালেট বাক্স পূর্ণ করে বিকাশে নির্বাচিত হয়ে যাবে এমন প্রশ্ন ভোটারদের। এখন দেখার পালা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে কে হবেন এবং ভোট সুষ্ঠু না হলে কে হবেন টইটং ইউনিয়নর অভিভাবক। এমনকি প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন সময় টইটং ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। কার আমলে কি উন্নয়ন হয়েছে তা এখন ভাবিয়ে তুলেছে ভোটারদেরকে। আবার অনেকই বলেন এতদিন আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পেতাম। কিন্তু ভাগ্য খারাপ ১১ এপ্রিলের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রচারণা শুরু করতে না করতে মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচন স্থাগিত করে নির্বাচন কমিশন। অনেক আশা হতাশা নিয়ে নিরব হয়ে যায় প্রার্থীরা। তারা শঙ্কিত ছিল কখন হবে এ নির্বাচন। সেই দুশ্চিন্তা কেটে এখন সরগরম হয়ে উঠেছে সেই আলোচিত সমালোচিত টইটং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, আসন্ন টইটং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী (নৌকা), তারই সহধর্মিণী শামিমা নাছরিন সায়মা ( টেলিফোন), উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য এবং টইটং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক  চেয়ারম্যান জেট এম মেসলেম উদ্দিন (চশমা) , উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও টইটং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বিএ (ঘোড়া), ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকনেতা নূরুল আমিন (মোটরসাইকেল), সমাজ সেবক ও ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন (আনারস), ইসলামী আন্দোলন মনোনীত সাহাব উদ্দিন দলীয় প্রতীক ( হাতপাখা)।

বিভিন্ন ওয়ার্ডে সদস্য পদে প্রতীক পেলেন যারা তারা হলেন-

১নং ওয়ার্ড হতে আবুল কাশেম (মোরগ), আবু তাহের (ফুটবল), আব্দুল জলিল (তালা), ওসমান গণি (টিউবওয়েল), জয়নাল আবেদীন (বৈদুৎতিক পাখা), হেলাল উদ্দিন (আপেল)।

২নং ওয়ার্ড হতে আবুল কালাম (ফুটবল), টিপু সুলতান (টিউবওয়েল), লুৎফর রহমান (তালা), মো. নাছির উদ্দিন (মোরগ)।

৩নং ওয়ার্ড হতে মো. আব্দুল মালেক (মোরগ), রুহুল আমিন (টিউবওয়েল), মনজুর আলম (তালা), মোহাম্মদ হোছাইন (ফুটবল)।

৪নং ওয়ার্ড হতে আব্দুল কাদের (তালা), আব্দু শুক্কুর (ফুটবল), কবির আহমদ (মোরগ), নবী হোছন (আপেল), আব্দুল হক (টিউবওয়েল)।

৫নং ওয়ার্ড হতে কবির আহমদ (তালা), রবিউল আলম (ফুটবল), আবু ওমর (টিউবওয়েল)।

৬নং ওয়ার্ড হতে ফয়সাল আকবর (ফুটবল), জাকের হোছাইন (মোরগ), আবুল কালাম (তালা), সৈয়দ নুর (টিউবওয়েল)।

৭নং ওয়ার্ড হতে শাহাব উদ্দিন সিকাদর (তালা), মো. সরওয়ার (ফুটবল)।

৮নং ওয়ার্ড হতে শফিউল আলম (তালা), কাইছার মো. ইলিয়াছ (ফুটবল), এস এম আবুল কাশেম (মোরগ), নুরুল ইসলাম (টিউবওয়েল), এস এম রেহানা (বৈদ্যুতিক পাখা)।

৯নং ওয়ার্ড হতে সেলিম উদ্দিন (মোরগ), নুরুল আফসার ( তালা), আজগর আলী (ফুটবল)।

সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড হতে দিলোয়ারা বেগম (হেলিকপ্টার), হামিদা বেগম (বই), মরতুজা বেগম (মাইক), ছেমন আরা বেগম (কলম)।

৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড হতে ফরিদা ইয়াছমিন (কলম), সেলিনা পারভীন (তালগাছ), রোজিনা আক্তার (মাইক), রোকসানা আক্তার (বই)।

৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড হতে আয়েশা খাতুন (মাইক), সাজেদা বেগম (কলম), হামিদা বেগম (বই), ফৌজিয়া ইয়াছমিন (হেলিকপ্টার)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী এবারও নৌকা প্রতীকে মনোনীত প্রার্থী। তিনি টইটং পেন্ডারবাড়ির বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম প্রকাশ নাবালক মিয়ার পুত্র। সে শিক্ষাজীবনে টইটং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পার হয়ে টইটং উচ্চ বিদ্যালয় হতে এস এসসি, আনোয়ারা কলেজ থেকে এইচ এস সি, চট্টগ্রাম এম ই এস কলেজ থেকে বি, এ, চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ টইটং উচ্চ বিদ্যালয় শাখার সভাপতি, পরে ছাত্রলীগের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি, ছাত্রলীগের সরকারি সিটি কলেজ শাখার যুগ্ম সম্পাদক, সর্বশেষ ২০০৫ সালে টইটং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকপদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও টইটং উচ্চ বিদ্যালয় ও বটতলী শফিকিয়া মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। গত নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকায় বেশ উন্নয়ন যেমন করছেন তেমনি এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করেছিলেন।

সুত্রে জানায়, গত বছরে জুলাই মাসে করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন মানুষের সরকারী দেওয়া ত্রান (চাল) চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বিতরণ না করে নিজেই লুটপাট করেছেন। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহ জাহান আলী সরেজমিন তদন্তে চাল চুরির অভিযোগ প্রমানিত হয়। সাবেক জেলা প্রশাসক কামাল হোসেনের নির্দেশে পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারী ত্রান চুরি করে বিক্রির অভিযোগে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে চাল চুরি ও মামলার কারণে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মেয়র অভিযুক্ত জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে টইটং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ হতে বহিষ্কার করেন। বহিস্কার আদেশ এখনো পর্যন্ত বলবৎ আছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় ও টইটং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ হতে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার ফলে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচনের নির্দেশনা দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়। দীর্ঘ আটমাস পরে সেই কাঙ্খিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ জুন।

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে আনন্দভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে ওই ইউপিতে। আবার অজানা আতঙ্কও বিরাজ করছে জনগনের মাঝে।

শামীমা নাছরিন সায়মা তিনি উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সহ সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি গত বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর সহধর্মিণী। তিনি টেলিফোন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

সমাজ সেবক ও ব্যবসায়ী কপিল উদ্দিন। তিনি আনারস প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

নুরুল আমিন একজন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। তিনি পেকুয়া ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সত্বাধিকারী। তিনি সকলের পরিচিত মুখ। তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

জেট এম মোসলেম উদ্দিন টইটং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও রাজনীতিবিদ। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালিন এলাকায় বেশ উন্নয়ন করেছেন। তিনি চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

শহিদুল্লাহ বিএ, তিনি টইটং ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে শালিস বিচার যথাযথভাবে সম্পন্ন করতো এবং এলাকায় বেশ উন্নয়ন করেছেন। তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

সাহাব উদ্দিন তিনি ইসলামি আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী। তাদের দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে নির্বাচন করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা রির্টানিং অফিসার ইরফান উদ্দিন জানান, টইটং ইউপি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী আচরণ বিধি মেনে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালানোর নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। কোন প্রার্থী আইন অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × two =

আরও পড়ুন