ইউপিডিএফ’র চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মাটিরাঙ্গার গোমতি বাজার ও সড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী

aborod3

পার্বত্যনিউজ রিপোর্ট:

মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি বাজারে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ’র অব্যাহত চাঁদাবাজি র প্রতিবাদে বাজার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ গোমতি বাজার ও মাটিরাঙ্গা গোমতি সড়ক বন্ধ করে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।  মাটিরাঙ্গা থেকে আমাদের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার জানাচ্ছেন, এলাকাবাসী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, পলাশপুর বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহার ও গোমতি ইউনিয়নে দুইটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবীতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে গোমতি বাজারের সকল ধরণের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে এবং মাটিরাঙ্গা-গোমতি- তাইন্দং সড়ক অবরোধ করে সকল ধরণের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সাথে বৈঠক করে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনগণের অভিযোগ শোনেন। বৈঠকে সেনাবাহিনীর পলাশপুরে জোন অধিনায়ক লে. ক. মুখলেসুর রহমান, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাজু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল হক, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহেআলমসহ পুলিশ ও বিজিবি’র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা অবিলম্বে চাঁদাবাজি করা তাদের টাকা ও মোবাইল প্রশাসনের মাধ্যমে ফেরত, পলাশপুর বিজিবি ক্যাম্প প্রত্যাহার করে গোমতি ও জালিয়াপাড়ায় দু্ইটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের দাবী করেছেন। এলাকাবাসী ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের সাথে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের আঁতাতের অভিযোগ তুলে বলেন, যখনই বিজিবি এলাকা ত্যাগ করে ক্যাম্পে ফিরে যায় তখনই ইউপিডিএফ প্রকাশ্যে অস্ত্রসহ এলাকায় প্রবেশ করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। বিজিবি’র অবস্থানের সকল খবর সন্ত্রাসী তাৎক্ষণিকভাবে পেয়ে যায় বলেও তাদের অভিযোগ।

গোমতি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. তোফাজ্জল হোসেন পার্বত্যনিউজকে বলেন, ইউপিডিএফ গত দুইমাস ধরে গোমতি বাজার ব্যবসায়ীদের কাছে বাৎসরিক ৫ লাখ টাকা চাঁদাদাবী করে ৫ বার চিঠি প্রদান করেছে। বিষয়টি প্রশাসন জানলেও এখনো কোনো সুরাহা করেনি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১০ মে ২০১৪) রাত ১০টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি চুক্তিবিরোধী ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ‘র চাঁদা কালেক্টর ইউনিটের প্রধান জেরিন চাকমা‘র নেতৃত্বে ইউপিডিএফ‘র স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গোমতি বাজারে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গণহারে চাঁদাবাজি করে। এসময় তারা অন্তত: ৫০টি দোকানে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত শতাধিক মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এসময় তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি করে বলে ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত ৮ মে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার বড়নাল ইউনিয়নের তৈলাফাং রোয়াজা পাড়া থেকে ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী জেরিন চাকমার নেতৃত্বে স্থানীয়দের ১৩ টি গরু অপহরণ করা হয়। পরে সন্ত্রাসীদের সাথে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং ২০ হাজার পরবর্তীতে পরিশোধ করা হবে মর্মে আপোষরফা করে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 1 =

আরও পড়ুন