উখিয়ায় কোরবানির পশুর হাট জমে উঠছে


কক্সবাজারের উখিয়ায় ধীরে ধীরে জমে উঠছে কোরবানির পশুর হাট। দেখা গেছে, পশুর হাটগুলোতে কয়েকদিন ধরে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে কোরবানির জন্য পশু ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রেতারা ভিড় করতে শুরু করেছে।
এবারে উখিয়া উপজেলার মধ্যে পশুর কোনো সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় পাঁচ হাজার বেশি গবাদিপশু রয়েছে। কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে বিভিন্ন খামারি ও স্থানীয় গৃহস্থ পরিবারের প্রায় ২৫ হাজার ৫১০টি পশু। যদিও এবারে চাহিদা ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৪১৪টি।
উখিয়া বাজার, কোর্টবাজার, সোনার পাড়া, মরিচ্যা, কুতুপালং, থাইংখালী, পালংখালীসহ উপজেলায় আটটি অস্থায়ী ও দুইটি স্থায়ী কোরবানির পশুর হাট অনুমোদন পেয়েছে।
শনিবার (৮ জুন) সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে-বড়, মাঝারি ও ছোট আকারের গরু, মহিষ, ছাগল বেচাকেনার জন্য হাটে তোলা হয়েছে। তবে অনুমোদিত হাটগুলোর মধ্যে কয়েকটি হাটে আজ (শনিবার) পর্যন্ত কোনো পশু তুলতে দেখা যায়নি।
উখিয়া গরু বাজারে পাঁচটি মহিষ নিয়ে এসেছেন তরুণ খামারি শহিদুল্লাহ। ভালো দাম পেলে তার মহিষগুলো বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।
আমির হামজা ও তার ছেলে রায়হানসহ ১০টি গরু নিয়ে এসেছিলেন দুপুরের পর, বিকেলের মধ্যেই সেখান থেকে তিনটি গরু বিক্রি করেছে পিতাপুত্র।
সাইফুল ইসলামের নামের আরেকজন বিক্রেতা ১০টি গরু নিয়ে এসেছিলেন; এর মধ্যে পাঁচটি গরু বিক্রি করেছেন। বিক্রিত পাঁচটির মধ্যে বড় দুইটি বিক্রি করেছেন তিন লাখ ৭০ হাজার টাকায়, অপর তিনটি বিক্রি করেছেন এক লাখ ৪০ হাজার টাকায়।
গরু ব্যবসায়ী কবির আহমদ উখিয়া গরু বাজারে আপাতত অবস্থা দেখতে এসেছেন পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন রত্নপালংয়ের ভালুকিয়া থেকে।
তিনি বলেন, তার বাড়িতে তিনটি গরু আছে। অনেকে তিনটি গরু চার লাখ টাকায় চেয়েছেন। তবে তাতে রাজি হননি কবির আহমদ। সাড়ে চার লাখ টাকা দিলে তার গরু তিনটি বিক্রি করবেন তিনি। তিনটি গরুর মোট ওজন প্রায় ১৪ মন হবে বলে জানান।
দেখা গেছে, উখিয়া গরু বাজারস্থ পশুর হাটে মাইক দিয়ে বলা হচ্ছে-রশিদ ছাড়া যেন কেউ পশু না কেনে। রশিদ ছাড়া কারও কাছে পশু পাওয়া গেলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। হাটের ইজারাদারেরা হাসিল হিসেবে বিক্রেতার কাছে এক হাজার দুইশো ও ক্রেতার কাছ থেকে পাঁচশো টাকা করে নিচ্ছেন।
উখিয়া গরু বাজারের পরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, পশু নিয়ে বিক্রেতারা হাটে আসা শুরু করেছে। সমানে ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে। তবে হাটে তোলা পশু আর আগত ক্রেতা অনুযায়ী সেভাবে পশু বিক্রি হচ্ছে না এখনো। কক্সবাজার, রামু, খরুলিয়া, হ্নীলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা পশু দেখতে আসছেন।
তিনি বলেন, হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জালনোট প্রতিরোধের জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদের আগে শনি-রোববার পর্যন্ত বাজার চলবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, আসন্ন ঈদে কোরবানি পশু প্রস্তুত আছে ২৫ হাজার ৫১০টি। তার মধ্যে ১৬ হাজার ১৯টি গরু, এক হাজার ৮৩৬টি মহিষ, ছয় হাজার ৫০২টি ছাগল এবং এক হাজার ১৫৪টি ভেড়া রয়েছে। এসব পশু আসন্ন ঈদ উপলক্ষে বিক্রয় করা হবে।
উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, উপজেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রতিটি গবাদিপশুর হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম থেকে সেবা প্রদান করা হবে। কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে৷
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ হোসেন বলেন, এবারও চাহিদার চেয়ে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু প্রস্তুত আছে। যা উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও বিক্রি করতে পারবেন খামারিরা। এ বছর প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য উপজেলাভিত্তিক তালিকাভুক্ত খামারিদের সারা বছর প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে আটটি অস্থায়ী ও দুইটি স্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নানা কৌশলে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ পশু যাতে ঢুকতে না পারে, সেজন্য বিজিবির সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে৷ খামারিরা যাতে ন্যায্যমূল্য পায়, সেজন্য সবধরনের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে৷ উপজেলা প্রশাসন থেকে পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

















