উত্তর রাখাইনের আমিয়েত গ্রামে অগ্নিসংযোগ, সেনাবাহিনীকে দায়ী করলো স্থানীয়রা

fec-image

রাখাইন রাজ্যের রাথেডং শহরের আমিয়েত তং গ্রামে মিয়ানমারের সেনারা বেশ কিছু ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (৫ জুলাই) এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা সংঘটিত হয়। এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন স্থানীয়দের অনেকে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, আমিয়েত তং এর উত্তর পাশে জি খাউং গ্রামের কাছে গুলির শব্দ শোনার পর মিয়ানমারের সেনারা তাদের গ্রামে আসে ও বিভিন্ন বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। তবে আমিয়েতের আশেপাশে সংঘর্ষ কিংবা ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের মুখপাত্র। তার দাবি, আরাকান আর্মির সদস্যরা এ কাজ করে থাকতে পারে। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

আমিয়েত তং গ্রাম থেকে প্রায় দুই মাইল দূরত্বে জি খাউং এর অবস্থান। শুক্রবার জি খাউং এলাকায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এরপর মিয়ানমারের সেনারা হঠাৎ আমিয়েতে এসে গ্রামের পশ্চিম অংশের আটটি ও পূর্ব অংশের তিনটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এক গ্রামবাসীর খামারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। আমিয়েত তং গ্রামের বাসিন্দা উ বা মাউং ইরাবতিকে বলেন, ‘আমরা জানিনা তাদের (মিয়ানমারের সেনাবাহিনী) কী হয়েছিলো। গুলি করতে করতে তারা আমাদের গ্রামে প্রবেশ করে ঘর-বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

মিয়ানমারের সেনাদের আসতে দেখে স্থানীয় গ্রামবাসীদের কেউ কেউ বোমা প্রতিরোধক আশ্রয়কেন্দ্রে লুকিয়ে থাকেন। কেউ কেউ আবার অন্য জায়গায় পালিয়ে যান। আমিয়েত তং এর বাসিন্দা দাও মা মায় ইরাবতিকে বলেন, ‘মিয়ানমারের সেনাদের দেখে অনেকে পালিয়ে গিয়েছিলো। আমি বোমা প্রতিরোধক আশ্রয়কেন্দ্রে লুকিয়ে ছিলাম। তারা চলে যাওয়ার পর সেখান থেকে বের হয়ে দেখতে পেলাম বাড়ি-ঘর আগুনে পুড়ছে।’

সরাসরি মিয়ানমারের সেনাদেরকে আগুন দিতে দেখেছে কিনা তা জানতে চাইলে জবাবে গ্রামবাসী বলেন, তারা তা কেবল দূর থেকে দেখেছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল উয়িন জ ও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইরাবতিকে তিনি বলেন, ‘৫ জুলাই আমিয়েত তং এর কাছে আমরা কোনও লড়াইয়ে জড়াইনি। আলেল চং এর কাছে আমরা লড়াই চালিয়েছি। আর ওই এলাকাটি আমিয়েত তং থেকে সাত-আট মাইল উত্তরে অবস্থিত। আমরা জানি না কারা আমিয়েত তং এলাকায় আগুন দিয়েছে। সম্ভবত আরাকান আর্মির সদস্যরা এ কাজ করেছে।’ সূত্র:  সাউথ এশিয়ান মনিটর

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight − two =

আরও পড়ুন