কেএনএফের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন বম সম্প্রদায়ের নেতারা

fec-image

বান্দরবানে ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় লুট করে নিয়ে যাওয়া ১৪টি অস্ত্র ফেরত দিয়ে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টকে (কেএনএফ) শান্তির পথে আসার আহ্বানের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বম সোস্যাল কাউন্সিলের নেতারা।

বম সোস্যাল কাউন্সিলের সভাপতি রেভা. লালজার লম বম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা আর সংঘাত চাইনা, আমরা শান্তি চাই। তাই কেএনএফ নেতাদের কিছু কথা বলার এবং অনুরোধ করার জন্য আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি।’

শুক্রবার (১০ মে) ২২ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় বম সমাজের নেতারা এই আহ্বান জানান। বম ভাষায় ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়।

ভিডিও বার্তায় কুকি-চিন নেতাদের প্রতি বম সোস্যাল কাউন্সিলের সভাপতি রেভা. লালজার লম বম বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে কেএনএফ সংগঠনের সঙ্গে সরকারের যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেটি আজকের ঘটনা নয়। এটি গত ২০২২ সাল থেকে শুরু হয়েছে। তখন আমরা এ কমিটির দায়িত্বে ছিলাম না।

তিনি বলেন, গত ২-৩ এপ্রিল রুমা ও থানচি উপজেলায় ব্যাংক ডাকাতির ঘটনার পর বম গ্রামগুলোতে শিশু ও বৃদ্ধ ছাড়া সবাই পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি প্রাণ বাঁচাতে মৃত্যু ভয় থেকে অনেক বম সম্প্রদায়ের মানুষজন দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে।’

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ে বসবাসকারী বম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে চরম খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। আম, আনারস ফলমূল বিক্রি করে কোটি টাকা পাওয়ার কথা সেখানে বম সম্প্রদায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। অনেকে বনে জঙ্গলে পালিয়ে থেকে খাবার না পেয়ে কলা গাছ খেয়ে দিনাতিপাত করছে। বম সমাজ আজ যে চরম দুর্বিষহ দিনাতিপাত করতে বাধ্য হচ্ছে তা সরকারের ভাষ্যমতে ১৪টি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এমনটি হয়েছে। আমাদের বম জাতিরা আজ যে দুর্বিষহ দিন পার করছে তার কারণ ব্যাংক ডাকাতি ও সরকারের অস্ত্র লুট করার কারণে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের অনুরোধে বা নির্দেশনায় আমরা এখানে সমবেত হতে আসিনি। বরং সাধারণ বম সমাজের মানুষদের আহ্বানে ও অনুরোধে সাধারণ মানুষের চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি। বম সম্প্রদায়ের একমাত্র দাবি হলো— এই, ব্যাংক ডাকাতির সময়ে লুট করে নেওয়া দেশ রক্ষাবাহিনীদের অস্ত্রসমূহ যতদ্রুত সম্ভব যেন ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়।’

বম সোস্যাল কাউন্সিলের সভাপতি আরও বলেন, ‘পাহাড়ে এখন জুম চাষের মৌসুম। জুমে বা কাজে গেলে কখন তাদের গায়ে গুলি লাগবে এই ভয়ে কেউ জুমের কাজে যেতে পারছে না। সরকারের সঙ্গে আমাদের যেন অতীতের মত পুনরায় যেন সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে এই জন্য সব বম সম্প্রদায় মানুষদের পক্ষ হয়ে অনুরোধ করছি।’

লুট করে নেওয়া সরকারের ১৪টি অস্ত্র ফেরত দেওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিকল্প পথ নেই বলে উল্লেখ করেন রেভা. লালজার লম বম।

ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেওয়ার সময় বম সোস্যাল কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক লাল থাং জুয়াল বম, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য জুয়েল বম, রুমা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান থাং খাম লিয়ান বমসহ বম সোস্যাল কাউন্সিলের ১০-১৫ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন ।

 

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কেএনএফ, বম, বান্দরবান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন