জেএসএসের হাতে অপহৃত সাবেক সেনা সার্জেন্ট মুকুল চাকমার কোন হদিস নেই
আবু সালেহ আকন, পার্বত্য অঞ্চল থেকে ফিরে
তিনি একজন সাবেক সেনা সার্জেন্ট। নাম মুকুল কান্তি চাকমা। অপহরণ হয়েছেন গত ৩০ মে। অনেককাঠখড় পুড়িয়ে ঘটনার একমাস ৪ দিন পরে মুকুল কান্তির পরিবার একটি মামলা দায়েরে সক্ষম হয়েছেন।এর আগে ২০ জুন একটি সাধারণ ডায়েরী গ্রহণ করেছিলো থানা। সেখানে জনসংসহতি সমিতির (জেএসএস)উপজেলা সভাপতিসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
পুলিশ তাদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। এদিকে, মুকুল কান্তির পরিবার এখন ভয়ে পালিয়েবেড়াচ্ছে। পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়া তো দূরের কথা, পুলিশের ওসি আসামীদের ব্যাপারে বলছেন, ‘ওরাসম্রাট, ওদের সাথে টিকে থাকা যাবে না’। মুকুল কান্তির পরিবার এখন ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয়নিয়েছেন। মুকুল কান্তি সেনা বাহিনীর একজন সাবেক সার্জেন্ট।
তার বাড়ি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির মারিস্যায়। সাবেক সেনা সার্জেন্ট হওয়ার কারণে স্থানীয় জেএসএস’র তার প্রতি অভিযোগ ছিলো, ‘তিনি সেনা বাহিনীর পক্ষে কাজ করেন। সেনা বাহিনীকে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন’। মুকুল কান্তির মেয়ে নমিসা চাকমা বলেন, ‘জেএসএস’র লোকজন বাবাকে সন্দেহ করতো। তারা ভাবতো তাদের অপকর্মের সব তথ্য বাবা সেনা বাহিনীকে দিয়ে দেয়।’ আরএকারণেই গত ৬ মে বাড়ির কাছেই বসেই মুকুল কান্তিকে মারধর করে স্থানীয় জেএসএস নেতা বিস্তার চাকমা। এই ঘটনার পর মুকুলবাড়ি ছেড়ে খাগড়াছড়ি গিয়ে থাকতেন।
মুকুল কান্তির স্ত্রী সাধনা চাকমা বলেন, গত ৩০ মে বিকেলে মোবাইলে ফোন করে তার স্বামীকেডেকে নেয় প্রভাদ কুমার চাকমা ওরফে কাকলি বাবু। সে জেএসএস উপজেলা কমিটির সভাপতি বলে জানান সাধনা। তিনি বলেন, ৬ মেযে মারধর করা হয়েছিলো তার একটি মিটমিমাংসার কথা বলে তার স্বামীকে ডাকা হয়। তাকে ডেকে উগছড়ির লাইল্যেঘোনার বক্কাচাকমার দোকানে নেয়া হয়। সেখান থেকে মুকুল একবার তার স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, সেখানে প্রভাদ চাকমা, আবিস্কার চাকমা, ত্রিদিবচাকমা এবং বিস্তার চাকমা আছে। তাদের সাথে তিনি কথা বলছেন।
৩০ মে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এই কথা হয়। ফিরতে দেরী হওয়ায় সাধনা রাত ৯ টার দিকে আবারো তার স্বামীকে ফোন দেন। কিন্তুএবার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে আরো কয়েকবার ফোন দিয়েছেন, কিন্তু মোবাইল বন্ধ। সেই থেকেই নিখোঁজ মুকুল। তিন/চারদিন পরে একবার ফোনটি খোলা পাওয়া গিয়েছিলো, কেউ ফোন ধরেনি। তারপর থেকে আর কোন সংযোগ মেলেনি। এদিকে,ঘটনার পর বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করতে থাকে।
নমিসা চাকমা বলেন, ওসি সরাসরি বলে দেন ‘ওরা হলো সম্রাট। ওদের সাথে পারবা না। ওদের সাথে ঝামেলা করো না। মামলা করোনা। মামলা করার যখন সময় হবে তখন বলবো।’ থানায় গেলে এই বলে প্রতিবারই বিদায় করে দেয়া হয় সাধনা চাকমা এবং তারমেয়েকে। শেষ পর্যন্ত এই পরিবার ২০ জুন একটি সাধারণ ডায়েরী করতে সক্ষম হন। এরপরও তারা অসংখ্যা বার মামলা করতে গেলেপুলিশ তাদেরকে নানা কথা বলে বিদায় করে দেয়। সাধারণ ডায়েরী করার পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও হুমকী দেয়া হয়।৪/৫ জন মুখোশধারী লোক তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে। এরপর পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নেন।
নাসিরাবাদ মহিলা কলেজের অনার্সের ছাত্রী নমিসা চাকমা গত ২৩ জুন বলেন, তার মা এবং তারা দুই বোন এখন আর বাড়িতে যেতেপারছেন না। তাদের কোনই নিরাপত্তা নেই। এদিকে, গত ৩ জুুলাই বিকেলেও সার্জেন্ট মুকুলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় এইঘটনায় পুলিশ মামলা নেয়নি।
তবে ৪ জুলাই বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই পরিবারের এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।
১ টার দিকে থানার ওসি আবুল কালাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আজ সকালে মামলা হয়েছে। মামলাটি গ্রহণে এতো দেরী কেন এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেননি তিনি।


















