তোমার জমিনে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছো, তুমি মুসলিমদের নেতা? হ্যাঁ বলার পরপরই গুলি করে সন্ত্রাসীরা

fec-image

তোমার জমিনে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছো, তুমি মুসলিমদের নেতা? উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইমাম ওমর ফারুক ত্রিপুরা হাঁ বলার পরপরই সন্ত্রাসীরা উপর্যুপরি গুলি করে হত্যা করে তাকে। পার্বত্যনিউজ’কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শহীদ ইমাম উমর ফারুক ত্রিপুরার কন্যা আমেনা ত্রিপুরা একথা বলেন।

উল্লেখ্য, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার তুলাছড়িপাড়ায় ১৮ জুন শুক্রবার এশার নামাযের পর নিজ ঘর থেকে ডেকে নিয়ে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে নওমুসলিম উমর ফারুক ত্রিপুরাকে।

এ প্রসঙ্গে পার্বত্যনিউজের প্রতিবেদক আবুল বাশার নয়ন কথা বলেছেন শহীদ ওমর ফারুক ত্রিপুরার পরিবারের সাথে। সাক্ষাতকারে শহীদ উমর ফারুকের মেয়ে আমেনা ত্রিপুরা বলেন, আমার জন্মের পর সাত বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি। তারপর সে ধর্ম নিয়েই মা-বাবার সাথে থাকি এবং মাদ্রাসায় লেখাপড়া করি। মাদ্রাসায় নার্সারি থেকে হেদায়েতুন্নাহু পর্যন্ত পড়ি।

পুরো সাক্ষাতকারের ভিডিও দেখুন এই লিঙ্ক থেকে-

শুক্রবারের দিন আমার বাবা এশার নামাযের পর বাড়িতে আসছিল, তখন চারজন লোক এসে ডাকছিল। ডাকার সাথে সাথে আমার আব্বু হাসতে হাসতে বের হইছিল, মনে করছিল ভালো লোক আসছে। নিজের মত ওদেরকেও ভালো লোক মনে করছিল। আমার আব্বু চলে গেছিল ওদের পাশে। সেন্ডেল যখন পড়তেছিল, তখন ওরা বললো, সেন্ডেল পড়তে হবে না, তাড়াতাড়ি এসো; এটা বলে যখন ওরা টেনে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন আমার আম্মু ওদের হাতে অস্ত্র দেখে বাবাকে যেতে নিষেধ করছিল। আমার বাবাও যেতে চাচ্ছিল না।

তারপর তারা বাবাকে জিজ্ঞেস করছিল- তোমার জমিনে তুমি মসজিদ বানাইছো না? তুমি মুসলিমের নেতা না? আমার আব্বু যখন হ্যাঁ বলছে তখন সাথে সাথে গুলি চালাই দিছে। আমি অনেক চিৎকার করছি, গ্রামে কেউ লাইট জ্বালায়নি, কেউ বাইরেও আসেনি। লাশটা পুরা একরাত ছিল। মরার অনেক পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী আসছিল।

আমেনা ত্রিপুরা আরও বলেন, ত্রিশটা পরিবার বসবাস করে। আগে তো দাওয়াত দিয়ে দিয়ে ১২টা পরিবার মুসলমান করছিল। তারা আবার নিজের ধর্মে নিজেরা ফিরে গেছিল। ওদেরকে আগে থেকেই হুমকি দেওয়া হইছিল। মুসলমান হলে এরকম করবে, ওরকম করবে। তারজন্য ভয়ে ওরা ফিরে গেছে। আমার আব্বু জুমে কাজ করতো, ওগুলো নিয়েই চলতো।

শহীদ উমর ফারুকের মেয়ে আরও বলেন, ভবিষ্যত জীবনটা আল্লাহ জানেন, আল্লাহ যদি সাহায্য করেন। প্রধানমন্ত্রী যদি সাহায্য করেন তাহলে, এখন ওনার সাহায্যটা প্রয়োজন। এছাড়া তো আর কোন উপায় নেই। আমাদের সামান্য জায়গা-জমি। সেখানে আমাদের ফ্যামিলি থাকে। সন্ত্রাসীরা যদি আবার আক্রমণ চালায়! আমরা যে ভাইবোন-মা বেঁচে আছি তাদেরতো আর কোন অভিভাবক নেই। এইজন্য আমরা চাই, আমাদের নিরাপত্তার জন্য কিছু ব্যবস্থা। সেনাবাহিনীর সাহায্য ও সরকারের সাহায্য চাই। আমাদের ভবিষ্যতে যেন কোন কিছু ক্ষতি না হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা যে মসজিদটা তৈরি করার কারণে সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলছিল, সেটা চাই আমি স্মৃতি হিসেবে মুছে না যাওয়ার মত হোক। মসজিদটি বিল্ডিং হোক। আর এটা করার জন্য সরকারের সাহায্য পাওয়া প্রয়োজন, মসজিদটার জন্য। এখানে যুগ যুগ ধরে ইসলামের প্রচার হোক। আর সবাই ইসলামের দাওয়াত পাক এটাই চাচ্ছি। আর যারা সরকারের বা সেনাবাহিনীর আমাদের সহযোগিতা করছে, আর যারা আলেম বা বড় বড় হুজুর নেমে আসতেছে তাদের জন্য আমি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক অনেক কৃতজ্ঞ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − nine =

আরও পড়ুন